প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বার ইসরাইল সফরে গেলেন নরেন্দ্র মোদি। এমন এক সময়ে তাঁর এই তেলআবিব যাত্রা, যখন রাষ্ট্রসংঘে শতাধিক দেশ ইসরাইলের গাজা অভিযান এবং পশ্চিম তীরে দখল নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মোদির সফর ঘিরে দেশ-বিদেশে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার তেলআবিবের বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর সৌহার্দ্যপূর্ণ আলিঙ্গনের ছবি দ্রুত সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই দৃশ্য নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এই সফরে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি ও বাণিজ্য সংক্রান্ত একাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে সামরিক সহযোগিতা ও আধুনিক প্রযুক্তি বিনিময় প্রধান আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। ভারত ও ইসরাইলের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে সরকারপক্ষের দাবি।
তবে বিরোধী দলগুলি এই সফর নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, গাজায় সাধারণ মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি কি ইসরাইলের সংসদে তোলা হবে? কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা বলেন, ভারতের দীর্ঘদিনের দুই-রাষ্ট্র সমাধানভিত্তিক নীতি থেকে সরে আসছে বর্তমান সরকার। তাঁর দাবি, ভারত ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে কথা বলেছে। কিন্তু এখন সেই অবস্থান দুর্বল হচ্ছে। পবন খেরা আরও অভিযোগ করেন, ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি, নজরদারি প্রযুক্তি ও বন্দর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। যদিও এসব অভিযোগের কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।
এদিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি জটিল। কয়েক মাস আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। সেই কারণে অনেক দেশে সফর নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবু ইসরাইল সরকার মোদির সফরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সমর্থন হিসেবে দেখছে। ইসরাইলের সংবাদমাধ্যমেও এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাম দলগুলিও এই সফরের সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, গাজায় চলমান সংঘর্ষ ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের স্পষ্ট অবস্থান জানানো উচিত। উল্লেখযোগ্য, মার্কিন উদ্যোগে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সমঝোতার চেষ্টা হলেও স্থায়ী শান্তি এখনও আসেনি। গাজায় হামলা ও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আরব দেশগুলি ও রাষ্ট্রসংঘের বহু সদস্য দেশ আপত্তি জানিয়েছে। এই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে মোদির ইসরাইল সফর কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


