সিঙ্গুরের মাটি থেকে শিল্প ও কাজের আশ্বাস ঘিরে রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়ল। রবিবার সেখানে বিজেপির একটি বড় জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই এলাকায় ভিড় ও কৌতূহল ছিল চোখে পড়ার মতো। বিজেপি নেতৃত্বের তরফে আগেই দাবি করা হয়েছিল, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুরেই ফের শিল্প গড়ে উঠবে। সেই কারণেই এই সভা নিয়ে মানুষের প্রত্যাশাও ছিল বেশি।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে মঞ্চে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিঙ্গুরে আবার কারখানা হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তার কথায়, “এটা মোদির গ্যারান্টি।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ তোলেন, রাজ্য সরকারের নীতির ফলে বাংলার শিল্প ও ব্যবসা অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে। সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, বিজেপি শিল্প ও কৃষিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঞ্চে ওঠার পর চিত্র কিছুটা বদলে যায়। প্রায় চল্লিশ মিনিটের বক্তৃতায় তিনি বাংলার প্রাকৃতিক সম্পদ, নদী, সমুদ্রতট এবং এখানকার মানুষের মেধা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় আলাদা সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেই শক্তিকেই কাজে লাগাতে চায় বিজেপি। তবে সিঙ্গুরে নির্দিষ্ট কোনও কারখানা বা শিল্প প্রকল্প নিয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। মূলত পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সামগ্রিক অগ্রগতির কথাই উঠে আসে তার ভাষণে।
এই বিষয়টি নিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস কটাক্ষ করেছে। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বাংলাকে বঞ্চিত করেছেন এবং সিঙ্গুরে এসে শিল্প নিয়ে নীরব থেকেছেন। অন্যদিকে সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, মঞ্চে বড় বড় কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনও স্পষ্ট পরিকল্পনার কথা শোনা যায়নি। আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিঙ্গুর থেকে শিল্পের যে বার্তা বিজেপি দিতে চেয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে তা পুরোপুরি স্পষ্ট না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা থেকেই গেল।


