মুম্বই বিমানবন্দরের চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি প্রার্থনাস্থল ভেঙে ফেলা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রায় তিন দশক ধরে ওই স্থানে মুসলিম চালক ও যাত্রীরা নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন। প্রতিদিন আনুমানিক প্রায় দুই হাজার মানুষ সেখানে প্রার্থনা করতেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে পবিত্র রমযান মাসে সেহরি ও ইফতারের ব্যবস্থাও থাকত সেখানে।
সম্প্রতি ওই কাঠামো সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ট্যাক্সি-রিকশা, ওলা ও উবার চালকদের একটি ইউনিয়ন। তাদের দাবি, কোনও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে জায়গাটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থ হন।
এই মামলার শুনানিতে বম্বে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে। বিচারপতি বিপি কোলাবাওয়ালা ও বিচারপতি ফিরদৌস পুনেওয়ালা বলেন, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের কাছে অস্থায়ীভাবে প্রার্থনার জন্য কোনও স্থান বরাদ্দ করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। আদালত মুম্বই মেট্রোপলিটন রিজিওন ডেভেলপমেন্ট অথরিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
ইউনিয়নের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বহু বছর ধরে একটি আধা-স্থায়ী শেড প্রার্থনার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ২০২০ সালের আগস্ট মাসে বিমানবন্দরের পরিচালন দায়িত্বে পরিবর্তন আসে। তখন চালকদের জানানো হয়, প্রার্থনার স্থান অন্যত্র সরানো হয়েছে। তবে নতুন জায়গায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ।
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, সিসিটিভি নজরদারি কিংবা ন্যূনতম সুবিধার অভাব ছিল। এ নিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অভিযোগও জানান। এক প্রতিনিধি বলেন, তারা কোনও বিলাসবহুল ব্যবস্থা চাননি, কেবল নিরাপদ ও সাধারণ সুবিধাসম্পন্ন একটি ছোট জায়গাই তাদের দাবি।
ইউনিয়নের অভিযোগ, আগাম কোনও নোটিশ ছাড়াই পুরনো কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা অন্যায় ও অযৌক্তিক। এখন আদালতের নির্দেশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।


