মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা কাণ্ডে তদন্ত প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর অভিযোগ তুলেছে, তদন্তের নামে গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত পদযাত্রা করে সংগঠনটি। মিছিলে অংশ নেন ধৃতদের পরিবার-পরিজনেরা। অনেককে দেখা যায় ছোট ছোট সন্তানদের হাত ধরে রাস্তায় হাঁটতে।
এপিডিআর-এর সাধারণ সম্পাদক আলতাফ আমেদ জানান, বেলডাঙার এক যুবক কাজের খোঁজে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। সেখানেই তার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। মৃতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; তাকে মারধর করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার বিচার চেয়ে গ্রামে আন্দোলন শুরু হয়। সেই বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে প্রায় ৩৬ জনকে গ্রেফতার করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। সংগঠনের বক্তব্য, সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে অযথা ভয় দেখানো হচ্ছে।
এ দিন ধৃতদের ব্যাংকশাল আদালতে তোলা হয়। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩১ জনকে এক দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে শুনানি চলছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে ঝাড়খণ্ডে মারা যান বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিক ৩৭ বছর বয়সী আলাউদ্দিন শেখ। তিনি সুজাপুর-কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ফেরিওয়ালা ছিলেন। কাজের সূত্রে বাইরে গিয়ে তার দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় বলে পরিবারকে জানানো হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যা, পরে তা আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা হয়েছে। তাদের আরও দাবি, ভিনরাজ্যে গিয়ে বাংলায় কথা বলার জন্য তাকে খুন করা হয়েছে।
এই অভিযোগ সামনে আসতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সুজাপুর ও কুমারপুরে পথ অবরোধ ও রেল অবরোধের মতো কর্মসূচি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নেয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও দেখে বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীতে এই ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। আদালত জানায়, তদন্তভার এনআইএ-কে দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র। এরপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে বেলডাঙার ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনার জেরে এখনও এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


