
শুক্রবার মুর্শিদাবাদ জেলায় সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সহিংসতার সূত্রে এখনও পর্যন্ত ১১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সূতি ও সামসেরগঞ্জ এলাকা থেকে যথাক্রমে ৭০ ও ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে। হিংসা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
বিক্ষোভকারীরা জাতীয় সড়ক ও রেললাইন অবরোধ করে, পুলিশি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে ইট-পাথর নিক্ষেপ করে। মুর্শিদাবাদের জঙ্গীপুরের সূতি ও সামসেরগঞ্জ ছাড়াও মালদা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হুগলি জেলায় হিংসার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমানের কার্যালয় এবং জলঙ্গি ব্লক উন্নয়ন দপ্তরে ভাঙচুর চালানো হয়। পূর্ব রেলের তথ্য অনুযায়ী, ধুলিয়ানগঙ্গা ও নিমতিটা স্টেশনের মধ্যে রেললাইনে প্রায় ৫,০০০ মানুষ বসে পড়ে, যার ফলে ট্রেন চলাচল স্থগিত হয়।
হিংসা মোকাবিলায় পুলিশের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (BSF)-কেও মোতায়েন করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং গুজব ছড়ানো হলে তাদের বিরূদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে জাতীয় সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানানো হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার শান্তির আবেদন জানিয়ে বলেন, “ওয়াকফ আইন কেন্দ্র সরকারের তৈরি। এটা বাংলায় প্রযোজ্য হবে না। ধর্মের নামে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে। কাউকে প্ররোচিত হতে দেবেন না।” তিনি স্পষ্ট করেন, হিংসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি রক্ষার বিষয়ে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাজ্যপাল সি.ভি. আনন্দ বোস মুর্শিদাবাদের সূতি, ধুলিয়ান ও উত্তর ২৪ পরগনার আমতলা সহ সহিংসতাপ্রবণ এলাকাগুলোতে দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনতে তৃণমূল সরকারকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এনিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন বলে রাজভবন সূত্রে জানা গেছে।

ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংশোধিত আইনকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার থেকেই জঙ্গীপুরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় সড়ক অবরোধ করলে সংঘর্ষে পুলিশি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনার পরই জঙ্গীপুরে কারফিউ জারি হয় ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়।
প্রশাসনের দাবি, উত্তপ্ত এলাকাগুলোতে এখন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে সম্ভাব্য অস্থিরতা এড়াতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি জারি রয়েছে। সাধারণ মানুষকে গুজব এড়িয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।


