মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের জাফরাবাদে বাবা ও ছেলেকে খুনের ঘটনায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে রায় ঘোষণা করল জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত। এই ঘটনায় মোট ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই খুনের পেছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১২ এপ্রিল। অভিযোগ, ওই দিন জাফরাবাদের বাসিন্দা হরগোবিন্দ দাস ও তার ছেলে চন্দন দাসকে তাদের বাড়ি থেকে টেনে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়। ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে গোটা জেলায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন মহলে রাজনৈতিক যোগসূত্রের অভিযোগ উঠলেও পুলিশ শুরু থেকেই জানিয়েছিল, এটি ব্যক্তিগত বিবাদের ফল।
তদন্তে নেমে পুলিশ একে একে মোট ১৩ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও ভিন্রাজ্য থেকে ধরা হয় কয়েকজনকে। একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে পুরো তদন্ত চালানো হয়। ঘটনার প্রায় দু’মাসের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট জমা দেয় তদন্তকারী দল। চার্জশিটে বলা হয়, পরিকল্পনা করেই ওই দিন বাবা-ছেলেকে বাড়ির ভিতর থেকে বের করে এনে খুন করা হয়েছিল।
গত সপ্তাহে মামলার শুনানি শেষ হয়। সোমবার জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতের বিচারক অমিতাভ মুখোপাধ্যায় রায় ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত ১৩ জনকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মঙ্গলবার তাদের শাস্তি কী হবে, তা জানানো হবে বলে আদালত সূত্রে খবর। অন্যদিকে, দোষী সাব্যস্তদের পক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, সাজা ঘোষণার পর প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য, দ্রুত তদন্ত ও শুনানির ফলেই এই মামলায় অল্প সময়ের মধ্যে রায় সম্ভব হয়েছে। এই রায়কে ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে প্রশাসন।


