মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি বিধানসভা এলাকায় ভোটার তালিকা ঘিরে বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সীমান্ত লাগোয়া এই অঞ্চলের ফরিদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কলিকাহারা গ্রামে একসঙ্গে প্রায় সত্তরের বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসতেই এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে।জানা গিয়েছে, ১৯৩ নম্বর বুথের একাধিক ভোটারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘ফর্ম-৭’ জমা পড়েছে। সাধারণত কোনও ভোটার মারা গেলে, অন্যত্র স্থায়ীভাবে চলে গেলে বা একই নাম একাধিকবার থাকলে এই ফর্মের মাধ্যমে নাম সংশোধন বা বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু যাদের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে, তাদের দাবি,তারা সকলেই জীবিত এবং বহু বছর ধরে নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। এমনকি তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রেও কোনও ত্রুটি নেই বলে জানা গিয়েছে।স্থানীয় এক বাসিন্দা মুহাম্মদ এনামুল হক বলেন, তিনি ভারতীয় নন বলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ জানানো হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের পরিবার বহু প্রজন্ম ধরে এই এলাকায় বসবাস করছে। এমন অভিযোগ তাদের কাছে অপমানজনক। একইভাবে আরও অনেকেই দাবি করেছেন, কাউকে ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে, আবার কাউকে ‘অন্য দেশের নাগরিক’ বলা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।এই নিয়ে জলঙ্গি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তাদের বক্তব্য, পরিকল্পিত ভাবে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এই কাজ করা হয়েছে। কাজী রুহুল আমিন নামে এক বাসিন্দার অভিযোগ, আবেদনকারী ব্যক্তি ওই এলাকার ভোটার নন। তার দাবি, রানিনগর থানার মোহনগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা বিজয় ঘোষ নামের এক ব্যক্তি এই আবেদন করেছেন।এই প্রসঙ্গে বিজয় ঘোষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, তিনি কোনও আবেদন জমা দেননি এবং কলিকাহারা এলাকার সঙ্গেও তার সরাসরি পরিচয় নেই। কেউ তার নাম ব্যবহার করে জালিয়াতি করে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। অভিযুক্ত ব্যক্তি বিজেপির স্থানীয় পদাধিকারী বলে জানা গিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এতজনের নাম একসঙ্গে বাদ দেওয়ার আবেদন গ্রহণ করা হল এবং সংশ্লিষ্টদের আগে থেকে কোনও নোটিশ কেন দেওয়া হয়নি। আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কলিকাহারা গ্রামের বহু পরিবার।
মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে ভোটার তালিকা থেকে মুসলিম ভোটারদের নাম কাটতে ফর্ম-৭, অভিযোগে উঠছে বিজেপির বিরুদ্ধে!
Popular Categories


