মুর্শিদাবাদের কান্দিতে মানবিকতার এক উজ্জ্বল ছবি ধরা পড়ল। ব্লক অফিসের কাছে বসবাসকারী ৩৪ বছরের সজল বারিক দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর শুক্রবার মারা যান। তিনি অত্যন্ত গরিব পরিবারের ছেলে ছিলেন বলে জানা যায়। সংসারের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, তার শেষকৃত্য কীভাবে হবে তা নিয়েই পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়।
এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান এলাকার মানুষ। মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন সজল বারিকের শেষকৃত্যে। স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরাও সাহায্যের হাত বাড়ান। সবাই মিলে চাঁদা তোলেন, যাতে সৎকারের খরচ জোগাড় করা যায়। পাড়ার নূর আলি, সামসের শেখ ও হাসিল শেখেরা নিজেরাই বাঁশ কেটে খাটুলি তৈরি করেন। অন্যদিকে বিশু বাগদি ও তার বন্ধুরা বাজার থেকে ফুল, মালা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে আনেন।
শেষযাত্রার সময় আরও আবেগঘন দৃশ্য দেখা যায়। বাবর, হাফিজুলদের মতো মুসলিম তরুণেরা সজলের মরদেহ কাঁধে তুলে শ্মশানের পথে হাঁটেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন হিন্দু যুবকরাও। পথজুড়ে ছিল নীরবতা আর চোখের জল। পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক বছর আগে সজলের এক বোনের মৃত্যু হলেও একইভাবে এলাকার মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই স্মৃতি এখনও তাদের মনে আছে। এবারও সেই একই সহমর্মিতা দেখে তারা কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠেন।
স্থানীয়দের কথায়, আজকের দিনে যখন নানা কারণে সমাজে বিভাজনের কথা শোনা যায়, তখন কান্দির এই ঘটনা অন্য বার্তা দিল। এখানে ধর্মের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে মানবিকতা। বিপদের সময় সবাই এক হয়ে গেলে কোনও পরিবার একা থাকে না,এটাই যেন আবার প্রমাণ হলো। সাধারণ মানুষের এই মিলিত প্রয়াস দেখিয়ে দিল, সম্প্রীতি শুধু কথার কথা নয়, প্রয়োজনে তা কাজে প্রমাণ করা যায়।


