ওড়িশার পুরুষোত্তমপুরে নির্মমভাবে খুন হলেন মুর্শিদাবাদের ৪৫ বছর বয়সী পরিযায়ী শ্রমিক লোকমান শেখ। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানার পশ্চিম দেবীদাসপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। রাজমিস্ত্রির কাজ করতে মাস দু’য়েক আগে ওড়িশায় গিয়েছিলেন লোকমান। গত তিনদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন লোকমান। রবিবার রাত থেকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা তার সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। অবশেষে বুধবার সকালে খবর আসে, একটি জঙ্গল থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দেহে কুড়ুলের কোপের চিহ্ন ছিল। পরিবারের দাবি, তাঁর দুই সহকর্মী রহিম ও নিত্য এই খুনের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাছ খাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে রবিবার রাতে লোকমানের সঙ্গে ওই দু’জনের ঝগড়া হয়। নাইট গার্ডকে ফোন করে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন, সেই রাতেই ঝগড়ার পরে রহিম ও নিত্য মিলে লোকমানকে রুম থেকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। তারপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন লোকমান। ওড়িশা পুলিশ ইতিমধ্যেই রহিম ও নিত্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।
লোকমানের স্ত্রী লালবানু বিবি শোকে ভেঙে পড়েছেন। ৫ সন্তানের ভরণপোষণ কিভাবে সামলাবেন তা ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছেন না তিনি।
লোকমানের স্ত্রী জানান, “স্বামীর সঙ্গে রবিবার বিকেলে শেষ কথা হয়েছিল। বলেছিল, বুধবার বাড়ি ফিরবে। কিন্তু তার বদলে এল মৃত্যুর খবর।” ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ ফিরিয়ে আনা হয়েছে মুর্শিদাবাদে।


