মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি ব্লকের সাগরপাড়া আশ্রমপাড়ায় বাস করেন নীতিশ সরকার। পেশায় বাসচালক নীতিশ হঠাৎই বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কারণ, এই বছর এন্যুমারেশন ফর্ম বিতরণ শুরু হয়েছে ৪ নভেম্বর থেকে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তিনি সেই ফর্ম হাতে পাননি। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও আশেপাশের বাড়িগুলিতে গিয়ে ফর্ম দিলেও নীতিশের বাড়িটি এড়িয়ে গিয়েছেন।
এর চেয়েও বড় সমস্যা দেখা দেয় ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশের পর। ২০২৫ সালের খসড়া তালিকায় নিজের নাম নেই দেখতে পেয়ে হতবাক নীতিশ। অথচ তিনি নিয়মিত ভোটার। শেষবার ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। ২০১৩ সালের ভোটার তালিকায় তার নাম স্পষ্টভাবে রয়েছে, যার ফলে বোঝা যায় তিনি বহু বছর ধরেই এলাকার স্থায়ী ভোটার।
পেশাগত কারণে নীতিশকে প্রায়ই বাইরে থাকতে হয়। বাস ডিউটির জন্য নির্বাচনের সময় বাড়িতে উপস্থিত থাকা সবসময় সম্ভব হয় না। তবে সেই কারণ দেখিয়ে নাম বাদ যাওয়া তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। নীতিশের কথায়, “আমার নাম কীভাবে বাদ গেল বুঝতে পারছি না। খুব দুশ্চিন্তায় আছি। সরকার যেন দ্রুত আমার নাম ফের তালিকায় তোলে।” এই পরিস্থিতিতে সমস্যার সমাধান খুঁজতে নীতিশ দৌড়াচ্ছেন কখনো বিএলও-র কাছে, কখনো পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও পরিষ্কার নির্দেশ বা নিশ্চয়তা পাননি। দ্রুত ব্যবস্থা না হলে ভোটাধিকারেরই ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।


