ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (আইটিআই) এ পেশ করার তথ্য থেকে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর খবর। রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ৯টি সরকারি মেডিকেল কলেজে সংখ্যালঘু চিকিৎসক প্রায় নেই বললেই চলে। শতাংশের নিরিখে এই মেডিকেল কলেজগুলিতে সংখ্যালঘু চিকিৎসকদের হার মাত্র ৬.৬ শতাংশ, যা রাজ্যের মোট মুসলিম জনসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত কম।
সড়ক ইনস্টিটিউট এর গবেষণাগারে রাজ্যের মোট ৯টি মেডিকেল কলেজের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ ও তার রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। এই রিপোর্টে বলা হয়েছে রাজ্যের ৯টি মেডিকেল কলেজে চিকিৎসক সংখ্যা ১৩৮১, যার মধ্যে সংখ্যালঘু চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ৯১ জন। পুরুলিয়া দেবেশ মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সংখ্যালঘু চিকিৎসকের হার মাত্র ১.৮২ শতাংশ, যা সর্বনিম্ন। নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজে সংখ্যালঘু চিকিৎসকদের হার ৫.৪৭ শতাংশ, ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে ১০.৬৬ শতাংশ।, ক্যালকাটা মেডিকেল কলেজে মাত্র ২.৬৬ শতাংশ।
সমগ্র রাজ্য জুড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা প্রতিনিয়ত চোখে পড়ছে। পরিকাঠামের অভাব ও শিক্ষানবিশ ডাক্তারদের অভাবের কারণে প্রতিনিয়ত ধুঁকছে রাজ্য সরকারি হাসপাতালগুলো। বিরোধীরা প্রশ্ন করছে, রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী তথা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জেনেও উদাসীন কেন?
বঙ্গীয় রাজনীতিতে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। ২৬ এ বাংলার মসনদের জন্য, সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে শাণ দিতে মরিয়া তৃণমূল-বিজেপি। এমন আবহে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংখ্যালঘু পরায়ণতা নীতির সঙ্গে রাজ্যে চিকিৎসা কেন্দ্রে সংখ্যালঘুদের অবস্থানের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না, যা অত্যন্ত উদ্বেগের। রাজ্য ও কেন্দ্রের উদ্যোগে ভারতবর্ষ থেকে সংখ্যালঘু নির্মূল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বিভিন্ন স্তরে। সরকারি হাসপাতালের সংখ্যালঘু চিকিৎসক হোক, বা প্রতিবেশী রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিক, বিভিন্ন স্তরে মুসলমান বিহীন একটি সমাজ তৈরি করতে চাইছে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার, দাবি বিরোধীদের।


