উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগর ২০১৩-এর দাঙ্গা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় শনিবার রায় দিল স্থানীয় আদালত। খুন, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে অভিযুক্ত ২২ জনকে প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস ঘোষণা করা হয়েছে। আদালত জানায়, অভিযোগ প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট তথ্য ও সাক্ষ্য প্রসিকিউশন তুলে ধরতে পারেনি।
এই মামলার সূত্রপাত ২০১৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মুজফ্ফরনগরের মোহাম্মদপুর রাইসিংহ গ্রামে সংঘটিত হিংসার ঘটনাকে ঘিরে। সেই সময় দাঙ্গায় প্রাণ হারান মহম্মদ হানিফের বাবা। তার অভিযোগ ছিল, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়, বাড়িঘরে আগুন লাগায়, লুটপাট করে এবং একটি মসজিদ ও আশপাশের যানবাহন ভাঙচুর করে। তার বাবাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
হানিফের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পর ২৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। তবে বিচার চলাকালীন চারজন অভিযুক্ত স্বাভাবিক কারণে মারা যান। ফলে বাকি ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি চলে। অতিরিক্ত জেলা ও সেশনস বিচারক কানিষ্ক কুমার রায়ে জানান, সাক্ষীদের বয়ানে অসঙ্গতি ছিল এবং ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্তদের সরাসরি যোগসূত্র প্রমাণ করা যায়নি। সেই কারণেই আদালত তাদের মুক্তি দেয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুজফ্ফরনগরে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে এটি অন্যতম ভয়াবহ দাঙ্গা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সমাজকর্মীদের মতে, উসকানিমূলক বক্তব্য থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক ভাষণ দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এই দাঙ্গায় অন্তত ৬০ জনের মৃত্যু হয় এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েন। বিশেষ করে মুসলিম পরিবারগুলির মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছে। আদালতের এই রায় ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এলাকায়।


