উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরের বড়া গ্রামের শান্ত পরিবেশ থেকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে গেছে বাংলার প্রাচীন নকশিকাঁথা শিল্প। এই কৃতিত্বের প্রধান কারিগর সূচিশিল্পী জোহর আলি মল্লিক। সম্প্রতি ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও শিল্পচর্চাকে সম্মান জানিয়ে তাঁকে পদক, সনদ এবং বিশেষ প্রকাশনায় স্থান দিয়েছে। এই স্বীকৃতিতে শুধু শিল্পী নন, আনন্দে ভাসছে গোটা গ্রাম।
শৈশব থেকেই সুঁই-সুতো ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। সাদা কাপড়ের ওপর রঙিন সুতোয় তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন গ্রামবাংলার মাঠ-ঘাট, মানুষজনের হাসি-কান্না, উৎসব আর প্রকৃতির নানা ছবি। তাঁর তৈরি প্রতিটি কাঁথা যেন গল্প বলে। সূক্ষ্ম সেলাইয়ের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকে আবেগ ও স্মৃতি।
নিজের বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন একটি প্রদর্শনী কক্ষ। দেশ-বিদেশের বহু শিল্পপ্রেমী সেখানে এসে তাঁর কাজ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। বিদেশি অতিথিরাও প্রশংসা করেছেন তাঁর শিল্পকর্মের আন্তরিকতা ও সৌন্দর্য।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় একাধিকবার সেরা হয়েছেন তিনি। তবে জাতীয় স্তরে বড় সম্মান এখনও পাননি বলে আক্ষেপ রয়েছে তাঁর মনে। তবুও তিনি থেমে নেই। নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলাই এখন তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। নকশিকাঁথাকে বিশ্বজুড়ে আরও পরিচিত করাই তাঁর স্বপ্ন।


