প্রবীণ অভিনেতা নাসিরউদ্দিন শাহ মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন। নির্ধারিত একটি ছাত্র অনুষ্ঠানে শেষ মুহূর্তে তার আমন্ত্রণ বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই সিদ্ধান্তকে তিনি অপমানজনক ও অসৎ বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের উদ্যোগে ১লা ফেব্রুয়ারি ‘জশ্ন-এ-উর্দু’ নামে একটি অনুষ্ঠানে শাহের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু অভিনেতার দাবি, ৩১ জানুয়ারি গভীর রাতে তাকে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে না আসার কথা। এমনকি কোনও স্পষ্ট কারণ বা দুঃখপ্রকাশও করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। পরে তিনি জানতে পারেন, দর্শকদের বলা হয়েছে যে তিনি নিজেই আসতে অস্বীকার করেছেন। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন শাহ।
একটি নিবন্ধে তিনি লেখেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমে তাকে বাদ দিয়ে পরে তার নামেই দোষ চাপিয়েছে, যা আরও অপমানজনক। দীর্ঘ চার দশকের অভিনয় জীবনে তিনি বহুবার ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মেলামেশা করেছেন। তরুণদের সঙ্গে কথা বলা ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়াকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত বলে মনে করেন। তাই এই অনুষ্ঠানে যেতে না পারায় তিনি হতাশ।
শাহ ইঙ্গিত দেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার মতামতের কারণেই হয়তো তাকে ডাকা হয়নি। কোনও এক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নাকি অভিযোগ করেছেন, তিনি দেশের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এর জবাবে অভিনেতা প্রশ্ন তুলেছেন, “কবে তিনি দেশের বদনাম করেছেন, তার প্রমাণ কোথায়?” তিনি বলেন, সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কাজের সমালোচনা করা মানেই দেশবিরোধী হওয়া নয়।
নিজের লেখায় তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া, ছাত্র আন্দোলনের ওপর চাপ এবং সমাজে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জর্জ অরওয়েলের ‘১৯৮৪’ উপন্যাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান সমাজের শাসকদলের তোষণ না করলে, তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


