ট্রেনের মধ্যে যাত্রীদের দেওয়া ননভেজ খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। কমিশনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে যে বহু ট্রেনে শুধু হালাল মাংসই পরিবেশন করা হচ্ছে। এই অভিযোগের পর কমিশন রেল বোর্ড, পর্যটন মন্ত্রক এবং ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মানক সংস্থা (এফএসএসএআই)-এর কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, একটি বিশেষ ধর্মীয় নিয়ম মেনে প্রস্তুত করা খাবার কেন অন্য ধর্মের যাত্রীদের বাধ্যতামূলকভাবে খেতে হবে। প্রত্যেক যাত্রীর অধিকার রয়েছে, তাকে কী ধরনের খাবার দেওয়া হচ্ছে তা জানার। বিশেষ করে ননভেজ খাবারের ক্ষেত্রে সেটি হালাল না ঝটকা—এই তথ্য স্পষ্টভাবে জানানো উচিত বলে মত কমিশনের। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আরও দাবি, যদি শুধুমাত্র হালাল সার্টিফিকেটযুক্ত মাংস কেনার নীতি চালু থাকে, তাহলে অ-মুসলিম ব্যবসায়ীরা এই ব্যবসা থেকে বাদ পড়ে যাবেন। এতে সংবিধানের সমান অধিকারের নীতি লঙ্ঘিত হতে পারে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে ট্রেনের মধ্যে খাবার সরবরাহের দায়িত্ব রয়েছে আইআরসিটিসি-র উপর। রেল ও পর্যটন মন্ত্রকের অধীনে এই সংস্থা ক্যাটারিং ও স্টেশনের ক্যান্টিন পরিচালনা করে। গত বছর ১০ ডিসেম্বর আইআরসিটিসি কমিশনকে জানিয়েছিল, তারা মাংস কেনার সময় হালাল সার্টিফিকেটকে বাধ্যতামূলক বলে মনে করে না। তাদের নীতিতে কোথাও লেখা নেই যে হালাল সার্টিফিকেট ছাড়া মাংস কেনা হবে না। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এফএসএসএআই-এর সব নিয়ম মেনেই খাদ্যসামগ্রী কেনে। কিন্তু এই উত্তরে সন্তুষ্ট হয়নি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, আইআরসিটিসির জবাব অস্পষ্ট। তাই সংস্থাকে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে তারা হালাল মাংস কিনছে, না ঝটকা মাংস কিনছে, নাকি দু’ধরনের মাংসই ব্যবহার করছে। পাশাপাশি যাত্রীদের এই তথ্য জানানো হচ্ছে কি না, সেটাও স্পষ্ট করতে হবে। কমিশন চার সপ্তাহের মধ্যে আইআরসিটিসি ও পর্যটন মন্ত্রককে পূর্ণ রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে। এছাড়া ফুড কন্ট্রাক্টরদের কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, ঠিকাদারদের নাম ও বিবরণ—সব তথ্য চাওয়া হয়েছে। শুধু ট্রেন নয়, স্টেশনের রেস্টুরেন্ট ও হোটেলগুলিতে যাঁরা মাংস সরবরাহ করেন, তাঁদের সম্পর্কেও তথ্য দিতে বলা হয়েছে।


