কেন্দ্রীয় বাজেট ঘিরে আগে থেকেই জোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সামনে একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় অনেকে ভেবেছিলেন, সাধারণ মানুষের জন্য বড়সড় কিছু স্বস্তির ঘোষণা আসবে। কিন্তু বাজেট পেশ হওয়ার পর দেখা গেল, সেই আশার অনেকটাই অপূর্ণ রয়ে গেল।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন মূলত মূলধনী ব্যয়ে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়েছেন। তবে দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে উল্লেখযোগ্য নতুন পদক্ষেপ খুব একটা চোখে পড়েনি। বিশেষ করে বায়ুদূষণের মতো গুরুতর ইস্যুতে বরাদ্দ কমে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। গতবার যেখানে দূষণ নিয়ন্ত্রণে ১৩০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছিল, এবার তা কমিয়ে ১০০০ কোটিতে নামানো হয়েছে। দিল্লি-সহ একাধিক শহরে বায়ুর মান দ্রুত খারাপ হলেও এই কাটছাঁট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা তীব্র হয়েছে।
রেল ও পরিবহণ খাতে কয়েকটি দ্রুতগতির ফ্রেট ও রেল করিডোরের ঘোষণা করা হয়েছে। ডানকুনি থেকে নতুন রুট, বারাণসী ও শিলিগুড়ির সংযোগ—এমন কিছু পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। তবে আগের বাজেটেও অনুরূপ প্রতিশ্রুতি থাকলেও কাজের অগ্রগতি খুব বেশি দেখা যায়নি। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ১০ হাজার কোটি টাকা, মেগা টেক্সটাইল পার্ক, মেডিক্যাল টুরিজম হাব, অ্যানিমেশন ল্যাব ও পর্যটন কেন্দ্র তৈরির মতো প্রকল্পের উল্লেখ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থান নির্দিষ্ট করা হয়নি।
গত বছরের বহু প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ পুরোপুরি খরচ না হওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। জলজীবন মিশনে বিপুল টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে তার অল্প অংশই ব্যয় হয়েছে। স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পেও ব্যর্থতার ছবি ধরা পড়েছে। কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুত প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও স্পষ্টতা নেই।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাবও পড়ছে। আমেরিকার শুল্কনীতির কারণে রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিশেষ করে এসইজেডে কর্মরত লক্ষ লক্ষ শ্রমিক অনিশ্চয়তায়। তবুও বিকল্প বাজার তৈরির স্পষ্ট রূপরেখা বাজেটে নেই। বরং ডেটা সেন্টার গড়তে বিদেশি সংস্থাকে দীর্ঘমেয়াদি করছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত বড় কর্পোরেটদেরই সুবিধা দেবে বলে মত অনেকের। সব মিলিয়ে বাজেটের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে ফারাক নিয়েই সংসদে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।


