“পুলিশ আমাদের মারধর করে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। এখানে না খাবার আছে, না থাকার জায়গা। আমরা খুব কষ্টে আছি। আমাদের এখান থেকে বের করে নাও, না হলে আমরা মরে যাব।” বাংলাদেশ থেকে ফোনে এইভাবেই নিজের দুর্দশার কথা আত্মীয়দের জানিয়েছেন ৬৫ বছরের আলকন বিবি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ ডিসেম্বর ওড়িশা পুলিশ আলকন বিবি, তাঁর স্বামী শেখ জব্বার এবং তাঁদের পরিবারের মোট ১৪ জন সদস্যকে আটক করে। কয়েক সপ্তাহ হেফাজতে রাখার পর ২৬ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার সীমান্ত দিয়ে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, কোনও সঠিক তদন্ত ছাড়াই তাঁদের অনুপ্রবেশকারী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বাংলাদেশে পৌঁছনোর পর প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারায় সেখানকার নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের আবার ভারতে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু এরপর বিএসএফ ফের তাঁদের জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। এই ঘটনার মধ্যে পরিবারের ৫ জন আলাদা হয়ে যান। বাকি ৯ জন এখনও বাংলাদেশের সিলেটে রাস্তায় পড়ে আছেন। এই পরিবারের মধ্যে রয়েছেন ৯০ বছরের এক বৃদ্ধা ও ৫ জন শিশু। শীতের মধ্যে খাবার, টাকা ও থাকার জায়গা না থাকায় তাঁরা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। দালালরা সীমান্ত পার করানোর নাম করে তাঁদের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা দাবি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। শেখ জব্বারের বোন রহিমা, যিনি পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রামে থাকেন, ভাইয়ের পরিবারকে ফেরানোর জন্য আইনি লড়াই শুরু করেছেন। তিনি জানান, শেখ জব্বার ওড়িশার রেজিস্টার্ড ভোটার। তাঁদের কাছে আধার কার্ড, রেশন কার্ড এবং প্রায় ৬০ বছর পুরনো জমির কাগজ রয়েছে। এমনকি ২০০২ সালের ভোটার লিস্টেও তাঁদের নাম রয়েছে বলে দাবি পরিবারের। পরিবারের আর এক সদস্য রহুমিন খান অভিযোগ করেন, ওড়িশায় বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই বাংলা ভাষাভাষীদের হয়রানি বাড়ছে। তাঁর কথায়, “আমরা বহু বছর ধরে ওড়িশায় কাজ করে বসবাস করছি। হঠাৎ করে আমাদের বাংলাদেশি বলা হচ্ছে।” এই বিষয়ে পুলিশ কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।


