ওডিশার কেন্দ্রপাড়া জেলার একটি বেসরকারি স্কুলে ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল চার শিক্ষকসহ স্কুলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। শনিবার পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চার শিক্ষক , রশ্মি কান্তা বিশ্বাল (৪৭), চন্দন কুমার প্রুস্তি (৩৭), বিশ্ব রঞ্জন সাহু (৩১) ও মিনতি বাঈ (৩৪) এবং স্কুলের পিয়ন রশ্মি রঞ্জন রানা (৩২)। রাজকণিকা থানায় পৃথক দুটি অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। সম্প্রতি মেয়েটি তার মা-বাবাকে এই বিষয়টি জানায়। তারাই প্রথমে জেলা শিশু সুরক্ষা কমিশনের (সিডব্লিউসি) দ্বারস্থ হন। কমিশন ৪৮ ঘণ্টার প্রাথমিক তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়। এরপর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তারা পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। কমিশনের সদস্যা স্বগতিকা পাত্র বলেন, “শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করার পর আমরা বুঝতে পারি এখানে গুরুতর অপরাধ ঘটেছে। তাৎক্ষণিকভাবে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করি।”
পুলিশ আধিকারিক সঞ্জয় মল্লিক জানান, মেয়েটির বাবা এবং সিডব্লিউসি-র দেওয়া দুটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। ধর্ষিতা কিশোরীর জবানবন্দি পকসো আইনে রেকর্ড করা হয়েছে। সকলের মেডিক্যাল পরীক্ষাও করানো হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিক প্রমাণ ও তদন্তের ভিত্তিতে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো ঘটনার গভীর তদন্ত চলছে।”
এই ঘটনা ফের স্কুলগুলিতে শিশু নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধী দলের নেতারা কেন্দ্রপাড়া এসপি-র কাছে স্মারক দিয়ে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ওপর নজরদারি বাড়ানোরও আবেদন জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত বিচার এবং মেয়েটিকে ন্যায়বিচার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।


