ওড়িশার নবরংপুর জেলার কপেনা গ্রামে খ্রিস্টান আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও হেনস্থার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, গত রবিবার গ্রামের একটি গির্জায় প্রার্থনা চলাকালীন একদল দুষ্কৃতী সেখানে ঢুকে বাধা দেয়। শুধু বাধাই নয়, প্রার্থনারত মানুষদের ভয় দেখানো হয় এবং গির্জা ভেঙে দেওয়া ও গ্রামছাড়া করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
খ্রিস্টান আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রায় ৩০টি পরিবার ওই গ্রামে বসবাস করে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা লাউডস্পিকার ব্যবহার করে ঘোষণা করে, যদি তারা প্রার্থনা চালিয়ে যায়, তাহলে গির্জা ভেঙে দেওয়া হবে এবং পরিবারগুলিকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা হবে। প্রার্থনারতরা এর প্রতিবাদ করলে গির্জার দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে সবাইকে বের করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার কথা জানিয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, কার্যত বলপূর্বক তাদের প্রার্থনা বন্ধ করানো হয়।
পরদিন একই এলাকার দুই যুবক, ১৭ বছরের জলাধর সান্তা ও ২০ বছরের মোহন সান্তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা উমেরকোট থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন। যদিও পুলিশের তরফে প্রথমে বিষয়টিকে দুই পক্ষের মধ্যে পুরনো উত্তেজনার ফল বলে উল্লেখ করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর প্রশাসনের উদ্যোগে একটি শান্তি কমিটি গঠন করা হয়। দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে গ্রামে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সাব-কালেক্টরের উপস্থিতিতে আলোচনায় বসা হয়। জেলা প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, যে বাড়িটি নিয়ে আপত্তি উঠেছে, তা নাকি সরকারি জমিতে তৈরি হয়েছে এবং তার একটি অংশ প্রার্থনাস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। শান্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থনাস্থল সরানোর জন্য ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।
এদিকে রাজ্যের খ্রিস্টান সংগঠনের এক নেতা অভিযোগ করেছেন, এই ধরনের ঘটনা পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর কয়েক সপ্তাহ আগেই ঢেঙ্কানাল জেলায় প্রার্থনা করানোর সময় এক যাজককে মারধরের ঘটনাও ঘটেছিল। ধারাবাহিক এই ঘটনাগুলি নিয়ে রাজ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


