মহারাষ্ট্রে হিজাব নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার ছড়িয়ে পড়ল অসম পর্যন্ত। আসাদউদ্দিন ওয়াইসির এক মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। মহারাষ্ট্রের একটি নির্বাচনী সভায় ওয়াইসি বলেন, ভারতের সংবিধান সকল নাগরিককে সমান অধিকার দিয়েছে। এখানে যে কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ভবিষ্যতে কোনও হিজাব পরা মহিলাও ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন এবং তিনি এমন দিনের আশাও করেন।
ওয়াইসির এই মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি বিজেপি। প্রথম প্রতিক্রিয়া দেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, ভারত হিন্দুদের দেশ এবং তাঁর বিশ্বাস, এই দেশের প্রধানমন্ত্রী হিন্দুই হবেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই বিরোধী দলগুলি প্রতিবাদে সরব হয়। তাদের দাবি, একজন মুখ্যমন্ত্রী এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না। সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলিও জানায়, এই বক্তব্য ভারতের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবনার বিরোধী।
পরে সাংবাদিকরা হিমন্তর মন্তব্য নিয়ে ওয়াইসির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি নাগপুরে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সংবিধানের শপথের মানে ঠিকভাবে বোঝেননি। তিনি আরও বলেন, শর্মার বক্তব্য পাকিস্তানের চিন্তাধারার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। ভারত কোনও এক ধর্মের জন্য নয়, এটাই দেশের সৌন্দর্য। এখানে ঈশ্বরে বিশ্বাস না করা মানুষও সমান অধিকার পান। এদিকে বিজেপি নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালা ওয়াইসিকে কটাক্ষ করে বলেন, আগে নিজের দলে একজন পশমন্দা মুসলিম মহিলাকে সংগঠনের প্রধান করুন, তারপর প্রধানমন্ত্রীর কথা বলুন। ১৫ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে পুরসভা ভোট রয়েছে। এই নির্বাচনে মিম প্রার্থী দেওয়ায় ভোটের আগে হিজাব বিতর্ক আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।


