দিল্লিতে একটি মসজিদ সংলগ্ন ওয়াকফ সম্পত্তি ভাঙাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এই ঘটনার জন্য কেন্দ্রের ওয়াকফ (সংশোধন) আইনকে দায়ী করে এবং একে ‘কালো আইন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। মঙ্গলবার ও বুধবারের মাঝামাঝি রাতে দিল্লির রামলীলা ময়দান এলাকার ফয়েজ-ই-ইলাহি মসজিদের কাছে একটি দখলবিরোধী অভিযান চালানো হয়। সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়ে যে তুর্কমান গেটের সামনে থাকা মসজিদটি ভাঙা হচ্ছে। এই খবরের জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, তখন কিছু মানুষ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। এতে পাঁচজন পুলিশ কর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে।
এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বলেন, গভীর রাতে তুর্কমান গেটের কাছে একটি মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তি ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাঁর দাবি, ১৯৭০ সালের একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ওই জমি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত। তিনি বলেন, সংসদে ওয়াকফ আইন সংশোধনের পর থেকেই এই ধরনের ভাঙার ঘটনা শুরু হয়েছে। জনগণের উচিত এসব ঘটনা বুঝে ভোটের মাধ্যমে শাসক দলকে জবাব দেওয়া। ওয়াইসি আরও অভিযোগ করেন, দিল্লি হাইকোর্ট এই বিষয়ে ভুল আদেশ দিয়েছে। তাঁর মতে, আদালতের মসজিদের মালিকানা নির্ধারণের অধিকার ছিল না। একই সঙ্গে তিনি দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, বোর্ড যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি জানান, এই বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে তোলা হবে। ওয়াইসি আরও বলেন, ওয়াকফ আইন মুসলিমদের ধর্মীয় সম্পত্তি দখলের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই আইন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কয়েকজন আঞ্চলিক নেতার সমর্থনে আনা হয়েছে। শেষে তিনি মহারাষ্ট্রের ভোটারদের কাছে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বর্তমান রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।


