দক্ষিণ ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী গ্রাম তারানগর আজ আর আগের মতো নেই। একসময় এই গ্রাম ছিল শিক্ষিত, বনেদি ও সমৃদ্ধ। পদ্মা নদীর ক্রমাগত ভাঙনে গ্রামের অধিকাংশ অংশ এখন তলিয়ে চলে গেছে বললেই চলে। কিছু সংখ্যক পরিবার নদীর তীরে বাস করলেও, তারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে যে কখন নদী গিলে খাবে তাদের শেষ আশ্রয়টুকু। তবে
এই অঞ্চলে ভাঙন নতুন নয়। আশির দশকের শেষেই কালিনগর, রাধাকৃষ্ণপুর, খাঁদুয়া, শেখালিপুরের মতো গ্রামগুলি হারিয়ে যায় পদ্মায়। সেই থেকেই আশঙ্কা ছিল, একদিন না একদিন তারানগরও একই পরিণতির শিকার হবে।
১৯৯৪-৯৫ সালের দিকে পদ্মা তারানগরের এক অংশ ভেঙে নেয়। এরপর কিছু বছর শান্ত থাকলেও ২০২৪ থেকে আবার ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়। বিশেষজ্ঞরা আগেই বলেছিলেন, পদ্মার বাংলাদেশের দিকে চর জমেছে, আর ভারতের দিকে নদীর গভীরতা বেড়েছে যা ভাঙনের বড় ইঙ্গিত ছিল। বাংলাদেশ তাদের দিকে সিমেন্ট, বালি ও পাথর দিয়ে মজবুত বাঁধ দিয়ে ভাঙন রোধ করলেও এপার বাংলায় সেই উদ্যোগ দেখা যায়নি। জানা গিয়েছে বহু বার বাঁধ তৈরির জন্য টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে কিন্তু কাজ হয়নি।


