রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই শাসকদল বিজেপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঔদ্ধত্য এবং বুথ স্তরের গুন্ডামি সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিচ্ছে। এবার খোদ পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত কালনার প্রখ্যাত তাঁতশিল্পী জ্যোতিষ দেবনাথ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর মদ্যপ অবস্থায় চড়াও হয়ে মারধর এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে, যিনি নিজেকে সক্রিয় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। গত সোমবার গভীর রাতে কালনা থানা এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা জেলাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা একজন প্রবীণ ও সম্মানিত শিল্পীর গায়ে হাত তোলার এই ঘটনা প্রমাণ করে দেয় যে, বিজেপির তথাকথিত সুশাসনের আড়ালে বাংলায় এখন এক চরম অরাজকতা ও ক্ষমতার দম্ভ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম লক্ষ্মণ দাস। গত সোমবার বিকেলে জ্যোতিষবাবুর বাড়ি লাগোয়া একটি কুয়ো খোঁড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য বচসা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই গভীর রাতে ওই যুবক চরম তাণ্ডব চালায়। পদ্মশ্রী জ্যোতিষ দেবনাথের অভিযোগ, রাতে যখন তাঁরা পরিবারের সকলে মিলে বাড়িতে বসে চা খাচ্ছিলেন, তখন লক্ষ্মণ দাস নামের ওই যুবক সম্পূর্ণ মদ্যপ অবস্থায় তাঁদের বাড়ির ভেতরে চড়াও হয়। নিজেকে বিজেপি কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে সে প্রবীণ শিল্পীকে ক্ষমতার দাপট দেখায় এবং অত্যন্ত নোংরা ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। শিল্পীর পরিবারের সদস্যরা এই চরম অভদ্রতার প্রতিবাদ করলে ওই মদ্যপ যুবক আচমকাই ক্ষিপ্ত হয়ে প্রবীণ শিল্পী জ্যোতিষবাবু, তাঁর ছেলে এবং পুত্রবধূকে বেধড়ক মারধর করে।
এদিকে নিজের অপরাধ ঢাকতে পাল্টা মারধরের মনগড়া অভিযোগ এনেছে অভিযুক্ত লক্ষ্মণ দাস। তবে নিজের দোষ ঢাকতে না পেরে ওই যুবক শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে ঘটনার সময় সে অত্যন্ত নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। এই ঘটনার পর দুই পক্ষই কালনা থানার দ্বারস্থ হয়েছে এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হতেই নিজের দলের পিঠ বাঁচাতে ময়দানে নেমেছেন কালনার বিজেপি বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার। ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে তিনি দাবি করেছেন যে, এই ধরণের গুন্ডামি নাকি বিজেপির সংস্কৃতি নয়। তিনি ঘটনার প্রকৃত তদন্ত দাবি করার পাশাপাশি দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে যেভাবে গুণ্ডাবাহিনী ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করা হয়, ঠিক সেই একই সংস্কৃতি এখন বাংলার বুথ স্তরের বিজেপি কর্মীরাও রপ্ত করতে শুরু করেছে। একজন পদ্মশ্রী প্রাপ্ত প্রবীণ গুণী মানুষও যেখানে নিজের বাড়িতে সুরক্ষিত নন, সেখানে বাংলায় আম জনতার নিরাপত্তা এখন কোন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তা এই ঘটনা থেকেই পরিষ্কার।


