পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্তে ফের উত্তেজনা চরমে উঠেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে দুই দেশের সেনার মধ্যে টানা গুলিবিনিময় ও গোলাবর্ষণের খবর মিলেছে। পরিস্থিতি এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে, দু’পক্ষই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে।
আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সীমান্ত সংঘর্ষে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের দাবি, পাকিস্তানের তরফে আগ্রাসনের জবাব দিতেই এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পাকিস্তান শক্ত প্রতিক্রিয়া জানায়। ইসলামাবাদের নির্দেশে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল-সহ একাধিক জায়গায় বিমান হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কাবুলে পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পাশাপাশি কান্দাহার এবং পাকতিয়া প্রদেশেও আঘাত হানা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’ নামে চালানো অভিযানে ১৩৩ জন আফগান তালিবান সদস্য নিহত হয়েছেন এবং দুই শতাধিক আহত। তার দাবি, আফগানিস্তানের ২৭টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া বহু অস্ত্রভাণ্ডার, ট্যাঙ্ক ও ভারী গোলাবারুদের সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে বলেও ইসলামাবাদের দাবি।
অন্যদিকে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিমান হামলায় বড় ধরনের সামরিক ক্ষতি হয়নি। তাদের বক্তব্য, কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ার ঘাঁটিগুলিতে হামলা হলেও কোনও সাধারণ নাগরিক বা সেনার মৃত্যু ঘটেনি। তবে সীমান্তে সংঘর্ষে আটজন আফগান সেনা নিহত এবং ১৩ জন আহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে কাবুল।
দুই দেশের পাল্টাপাল্টি দাবিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব পড়তে পারে। আপাতত সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং উভয় দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড় বলে জানা গিয়েছে।


