লোকসভায় বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) সাম্প্রতিক লিখিত জবাবে জানানো হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফরে সরকারি কোষাগার থেকে মোট ৭৬২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। জবাবে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের খরচের পাশাপাশি সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দলের সদস্যসংখ্যা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে খরচ হয় ১০৯.৫১ কোটি টাকা। আর ২০২৫ সালে সেই খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৫.১৯ কোটি টাকায়। ওই বছরে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, আমেরিকা মহাদেশ, আফ্রিকা এবং পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশে সফর করেন বলে জানা গিয়েছে।
বছরভিত্তিক খরচের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে খরচ হয়েছিল ৯১.৫ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে ৩৩.২২ কোটি, ২০১৭ সালে ৪৪.২৭ কোটি, ২০১৮ সালে ৫১.৪৬ কোটি এবং ২০১৯ সালে ৭১.৭৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিদেশ সফর না হওয়ায় কোনও খরচ হয়নি। এরপর ২০২১ সালে ৩৬.১১ কোটি, ২০২২ সালে ৫৫.৮২ কোটি এবং ২০২৩ সালে ৯৩.৬৩ কোটি টাকা খরচ হয়।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সফরের সময় আতিথেয়তার বেশিরভাগ ব্যয় বহন করে আয়োজক দেশ। ভারত সরকারের খরচ মূলত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সরকারি প্রতিনিধি দল, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের যাতায়াত এবং অন্যান্য লজিস্টিক খাতে হয়ে থাকে। ২০১৪ সালের মে মাসের পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দলের সদস্যসংখ্যা প্রয়োজন অনুযায়ী ২৭ থেকে ৭২ জনের মধ্যে ছিল। তবে ২০২৫ সালে পাঁচটি দেশ সফরের একটিতে প্রতিনিধি দলের সদস্যসংখ্যা ছিল ৯৫ জন।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে খরচ তুলনামূলক কম ছিল। তবে পরে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক বাড়ায় ব্যয় বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমলে নির্দিষ্ট কয়েকটি সফরে তুলনামূলক কম খরচ হয়েছিল—২০১১ সালে আমেরিকা সফরে ১০.৭৪ কোটি, একই বছরে ফ্রান্সে ৮.৩৩ কোটি, ২০১৩ সালে রাশিয়ায় ৯.৯৫ কোটি এবং জার্মানিতে ৬.০২ কোটি টাকা।


