২৩ এপ্রিল (২০২৫), জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন মেডোতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে একমাত্র স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন সৈয়দ আদিল হুসেন শা (২৯)। পেশায় ঘোড়া চালক আদিল পর্যটকদের ঘোড়ায় চাপিয়ে বৈসরন ভ্যালিতে নিয়ে যাওয়া-আসার কাজ করতেন, যা ছিল তাঁর পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।
২২ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে ৫-৬ জন সশস্ত্র জঙ্গি পাইন বন থেকে বেরিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করলে পর্যটকরা ছোটাছুটি শুরু করেন। আদিল প্রথমে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও এক পর্যটককে বাঁচাতে গিয়ে জঙ্গির রাইফেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এই সময় জঙ্গিরা তাঁর গলা ও কাঁধে তিনটি গুলি করে। আহত অবস্থায় তাঁকে শ্মশান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর ।

আদিলের পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানরা। হামলার দিন সকালে কাজে যাওয়া আদিলের ফোন বন্ধ পেয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। পরে পুলিশ স্টেশন থেকে তাঁর মৃত্যুসংবাদ শুনে মা-বাবা ভেঙে পড়েন। বৃদ্ধ মা কান্নায় ভেঙে বলেন, “ওই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা। এখন কী করে চলবে?” বাবা সৈয়দ হায়দার শা বিচার দাবি করে বলেন, “যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের কঠোর শাস্তি হোক” ।
জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ আদিলের জানাজায় অংশ নিয়ে তাঁর পরিবারকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “আদিল শুধু পর্যটকদের বাঁচাননি, কাশ্মীরিদের মর্যাদা রক্ষা করেছেন” । স্থানীয়রা এই জঙ্গী হামলাকে ” তাদের জীবিকার উপরে মরণ আঘাত বলে অভিহিত করেছেন, কারণ পহেলগাঁওয়ের হাজারো পরিবার পর্যটনশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটকরা না আসলে তাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
লাশকার-ই-তৈবার অঙ্গসংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ, রাশিয়ার পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সহ বিশ্ব তাবড় তাবড় নেতারা এই ঘৃণ্য পৈশাচিক হামলার তিব্র নিন্দা করেছেন।
এই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকার পাকিস্তানের সাথে Indus Water Treaty স্থগিত করেছে এবং কাশ্মীরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে । তবে সন্তানহারা আদিলের বৃদ্ধ বাবা-মা আজও অপেক্ষায়— ছেলের হত্যাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি পেতে দেখতে।


