বড়দিনের দিনে ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা থেকে বিশ্ববাসীর উদ্দেশে শান্তি ও মানবতার বার্তা দিলেন পোপ লিও চতুর্দশ। তার প্রথম বড়দিনের ভাষণে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বিশ্বজুড়ে চলা যুদ্ধ, হিংসা ও মানবিক বিপর্যয় বন্ধের আহ্বান জানান। এই ভাষণ শুধু ধর্মীয় অনুভূতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং বর্তমান বিশ্বের কঠিন বাস্তবতাকেও সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।
ভাষণের শুরুতেই পোপ গাজার ভয়াবহ অবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সেখানে এখনও লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া, খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে দিন কাটাচ্ছেন। শীত, বৃষ্টি আর যুদ্ধের আতঙ্কে শিশু ও বৃদ্ধদের জীবন সবচেয়ে বেশি বিপন্ন। পোপের মতে, এই পরিস্থিতি মানবতার জন্য গভীর লজ্জার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রথম পোপ হিসেবে লিও চতুর্দশ যিশুর জন্মকথার সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা টানেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যিশু নিজেও ছিলেন অসহায় ও অনিশ্চিত জীবনের প্রতীক। তাই আজকের দিনে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষদের কষ্ট ভুলে থাকা মানে খ্রিস্টীয় শিক্ষার মূল ভাবনাকেই অস্বীকার করা।
গাজা ছাড়াও তিনি ইউক্রেন, সুদান, মায়ানমার, মালি এবং থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তের সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন। ইউক্রেনের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে পুরনো বন্ধুত্ব ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
ভ্যাটিকানে বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনার সময় পোপ বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সম্প্রীতির ডাক দেন। তিনি আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শরণার্থী ও অভিবাসীদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন। তার বক্তব্য, দরিদ্র ও আশ্রয়হীন মানুষকে সাহায্য না করা মানে ঈশ্বরের কাছ থেকেও মুখ ফিরিয়ে নেওয়া।
এদিকে গাজা যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে যিশুর জন্মস্থান বেথলেহেমেও। গত দুই বছর সেখানে বড়দিন ছিল প্রায় নিরব। তবে এই বছর কিছুটা হলেও উৎসবের আবহ ফিরেছে। জেরুসালেমের ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ক বেথলেহেমে প্রার্থনার সময় বলেন, মানুষের ক্ষত গভীর হলেও নতুন করে বাঁচার ইচ্ছা এখনও হারায়নি। ভাষণের শেষভাগে পোপ তরুণদের যুদ্ধে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, ক্ষমতালোভী নেতাদের ভুল সিদ্ধান্তে তরুণদের জীবন নষ্ট হচ্ছে। পোপের এই বড়দিনের বার্তা ছিল বিশ্বনেতাদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর সহানুভূতির প্রকাশ। তার মতে, যুদ্ধ থামিয়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই আজকের দিনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।


