রাষ্ট্রপতির সম্মতি না মেলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জন্য বড়সড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় আইন (সংশোধনী) বিল, নিয়ে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে। এই বিলে রাজ্যের সমস্ত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সেই বিলে সই না করায় প্রস্তাবটি কার্যকর হল না বলে জানা যায়।
এর ফলে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির চ্যান্সেলর পদে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসই আগের মতো সমস্ত রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। রাজভবন সূত্রেও জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে অবস্থান অপরিবর্তিত থাকছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাজ্য মন্ত্রিসভা এই সংশোধনী বিলের অনুমোদন দেয় এবং বিধানসভায় তা পাশ হয়। পরে ২০২৪ সালে রাজ্যপাল আনন্দ বোস সেই বিল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান বিবেচনার জন্য। রাজ্য সরকারের দাবি ছিল, মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যান্সেলর করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত কাজ আরও দ্রুত ও সুচারু ভাবে এগোবে।
এই বিল পাশের সময় রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্য সরকার তার সঙ্গে আলোচনা না করেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ করছে। সেই সময় থেকেই রাজ্য সরকার ও রাজভবনের মধ্যে টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলের একাংশ মনে করছে, রাষ্ট্রপতির এই সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার ও রাজভবনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধকে আরও সামনে এনে দিয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যপালই বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হন। এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হলে সাংবিধানিক দিক থেকে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপতির সম্মতি না পাওয়া থেকে স্পষ্ট, সংশোধনী বিলটি নিয়ে এখনও আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকারের মতে, উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে যে দীর্ঘ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতেই এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছিল। তবে প্রথম থেকেই বিরোধী দলগুলি এই বিলের বিরোধিতা করে আসছে। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির দাবি, এই বিল কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার ক্ষুণ্ণ হত এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আরও বাড়ত।


