ইসরাইলের একটি থিয়েটার দলের ,ভারতে আসার ভিসা শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়ায় শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিষয়টি নিয়ে কেরলসহ দেশের বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে, ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানো কি এখন ভারতে নিষিদ্ধ হতে চলেছে? এই থিয়েটার দলের সদস্যরা ইসরাইলের নাগরিক হলেও তারা ফিলিস্তিনে চলা গণহত্যার বিরুদ্ধে সরব। তারা ইসরাইলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের কড়া সমালোচক। কেরলের থিয়েটার উৎসবে তাদের যে নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার কথা ছিল, তার নাম ‘দ্য লাস্ট প্লে ইন গাজা’। এই নাটকের মাধ্যমে গাজার মানুষের যন্ত্রণা ও নীরব কান্না তুলে ধরতে চেয়েছিলেন শিল্পীরা।
কেরলের অনুষ্ঠানটির আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় দু’মাস আগেই ভিসার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। মঙ্গলবার নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তেল আবিবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস শেষ মুহূর্তে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে থিয়েটার দলের সদস্যরা ভারতে আসতে পারেননি। দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। কেরল সংগীত নাট্য অ্যাকাডেমির সেক্রেটারি কে মুরাল বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছিল। ভিসার বিষয়টি দূতাবাসের দেখার কথা ছিল। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ইসরাইলের বিশিষ্ট পরিচালক আইনতি ওয়েজম্যান জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নাটকের বিষয়বস্তু জানতে চেয়েছিল এবং তা পাঠানোও হয়েছিল। তিনি বলেন, “এটা কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, পুরোপুরি আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত। গাজাকে যেমন মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে, তেমনই আমাদের নাটককেও মুছে দেওয়া হল।” ওয়েজম্যান আরও বলেন, এই নাটক কোনওদিন ইসরাইলে অনুমতি পেত না, এমনকি বর্তমান ফিলিস্তিনেও নয়। কিন্তু ভারতে এসে এমন ঘটবে, তা ভাবেননি। শেষ পর্যন্ত কেরলের ফাঁকা স্টেজই হয়ে উঠল তাদের নীরব প্রতিবাদের প্রতীক। দলটি ভারতে আসতে না পারলেও, তাদের বার্তা এবং প্রতিবাদ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে বলেই মনে করছেন তারা।


