পরাধীন ভারতবর্ষ হোক কিংবা স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতবর্ষ, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সরকার তথা শাসক বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস বহু পুরনো। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন জহরলাল নেহেরু। ১৯৫০ সালে দেশভাগের জ্বালা ও নানান সমস্যা নিয়ে বঙ্গে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে, তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু কলকাতাকে, ‘দুঃস্বপ্নের শহর’ বলে সম্বোধন করেন।
২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে আরো একবার সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার রক্ষার্থে গর্জে উঠলো কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। দেশের অন্য অংশেও বড় সংখ্যায় মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। যেমন উত্তরপ্রদেশে কয়েক কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তুতির কথা সামনে এসেছিল। তবুও সেখানে বড় কোনও প্রতিবাদ চোখে পড়েনি। একইভাবে বিহারেও লক্ষ লক্ষ মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু রাস্তায় নেমে বড় আকারে আন্দোলন হয়নি।
এর পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে ভয়ের পরিবেশ। অভিযোগ, কিছু রাজ্যে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া বা অন্যান্য শাস্তির আশঙ্কা তাদের চুপ থাকতে বাধ্য করে। ফলে অসন্তোষ থাকলেও তা প্রকাশ পায় না।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন দেখা গেছে। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার উভয়ের পক্ষে তীব্র বিরোধিতা করেছে বঙ্গবাসী। বিরোধীদের দাবি নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির আঁততে SIR বাস্তবায়িত হচ্ছে। অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গের SIR শুরু হওয়ার পূর্বে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসমক্ষে জনসাধারণের উদ্দেশ্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, “আমি বেঁচে থাকতে একটাও SIR হতে দেবো না!” সাধারণ মানুষের একাংশ রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছে, প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও, কেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে SIR আটকাতে ব্যর্থ হলেন? এছাড়াও বুথ লেভেল অফিসারদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, অনেক সময় সাধারণ মানুষ কাগজপত্র নিয়ে সমস্যায় পড়লে যথাযথ প্রদেশ বা সমাধান মেলেনা।


