গাজার রাফাহ সীমান্ত দিয়ে নিজ ভূমিতে ফিরতে গিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর দুর্ব্যবহার, হেনস্থা ও বলপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে “সমষ্টিগত শাস্তি” বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে হামাস। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি দাবি করেছে, সীমান্তে যে আচরণ করা হচ্ছে তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
হামাসের অভিযোগ, রাফাহ ক্রসিং দিয়ে যাতায়াত করা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অপমানজনক ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু মহিলাকে আলাদা করে আটকানো, চোখ বেঁধে জেরা করা এবং অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করার মতো ঘটনা ঘটেছে। এমনকি কারও কারও সন্তানদের ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। হামাসের মতে, এটি পরিকল্পিতভাবে মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা, যাতে তারা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে সাহস না পায়।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছে এই ঘটনাগুলি নথিবদ্ধ করার আবেদন জানিয়েছে হামাস। এদিকে চিকিৎসার প্রয়োজন নিয়ে প্রায় ১৩৫ জন ফিলিস্তিনি রাফাহ সীমান্তে পৌঁছেছেন, যাতে তারা মিশর হয়ে বিদেশে চিকিৎসা নিতে পারেন। কিন্তু কতজনকে যেতে দেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দীর্ঘ প্রায় দু’বছর বন্ধ থাকার পর সোমবার সীমান্ত আংশিক খুললেও প্রথম দিনে মাত্র পাঁচজন গুরুতর অসুস্থ রোগীকে বের হতে দেওয়া হয়েছে।
রেড ক্রসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সীমান্ত খোলার বিষয়ে অনিশ্চয়তা গাজার মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন খুব অল্প সংখ্যক মানুষ সীমান্ত পার হতে পারছেন। অনেক পরিবার বছরের পর বছর প্রিয়জনদের অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রায় ২০ হাজার মানুষ জরুরি চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে চাইছেন, কিন্তু অনুমতির সংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে রাফাহ সীমান্ত ঘিরে উদ্বেগ ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে।


