নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে রবিবার কংগ্রেসের ডাকে আয়োজিত বিশাল সমাবেশ থেকে বিজেপি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুললেন রাহুল গান্ধি। ‘ভোট চোর, গদি ছাড়ো’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, ভোট নিয়ে কারচুপি করা বিজেপির রাজনীতির অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার দাবি, কংগ্রেস সত্য ও ন্যায়বিচারের পথে দাঁড়িয়ে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, কমিশনের শীর্ষ কর্তারা কার্যত শাসক দলের স্বার্থ রক্ষা করছেন। তার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার বদলে কমিশন বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছে। রাহুলের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে সত্য ও মিথ্যার লড়াইয়ের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, এই লড়াইয়ে সময় লাগলেও শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হবে।
কংগ্রেস নেতা আরও দাবি করেন, কথিত ভোট কারচুপির প্রতিবাদে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে, যা শীঘ্রই রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া হবে। তার মতে, ভোটের ওপর আঘাত মানে সংবিধানের মূল ভাবনাকে দুর্বল করা। ‘এক ব্যক্তি, এক ভোট’ নীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হলে গণতন্ত্র বিপদের মুখে পড়বে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধি-সহ একাধিক প্রবীণ নেতারা। বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে রামলীলা ময়দান ভরে ওঠে। পরে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধি আবারও অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে বিজেপি নানা অনৈতিক পথ অবলম্বন করছে এবং এই প্রবণতার বিরুদ্ধেই কংগ্রেসের লড়াই।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢরা বলেন, দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে প্রশ্ন উঠছে। তার দাবি, নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তাদের মানুষকে জবাব দিতে হবে। দেশের প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করা হলে সাধারণ মানুষকেই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, মল্লিকার্জুন খাড়গে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, যারা ভোটের অধিকার খর্ব করে তারা দেশ ও সংবিধানের শত্রু। গণতন্ত্র বাঁচাতে হলে এই শক্তিকে ক্ষমতা থেকে সরানো জরুরি বলেই কংগ্রেস নেতৃত্বের বার্তা।


