পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও নতুন করে উত্তাপ ছড়াল তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের সম্পর্ক ঘিরে। সম্প্রতি লোকসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে বিরোধীদের অবস্থান রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। ওই বিলটি পাস হওয়া আটকাতে বিরোধী দলগুলি একসঙ্গে অবস্থান নেয়। তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের এই যৌথ অবস্থান কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তাদের সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন অনেকে।
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, সংসদে এই ঘটনায় সরকারের অস্বস্তির পর বিরোধী শিবিরে পারস্পরিক যোগাযোগও বেড়েছে। শোনা যাচ্ছে, ফলাফল প্রকাশের পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নাকি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে ফোন করে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান কংগ্রেসের শীর্ষ নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা আরও জোরদার হয়।
তবে কেন্দ্রের এই সমঝোতার ছবি রাজ্যে একেবারেই ভিন্ন। কয়েক দিনের মধ্যেই সেই ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে একটি সভা করার অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে রাহুল গান্ধীর তরফে। এর পরেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
একটি জনসভা থেকে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, রাজ্যে বিজেপির উত্থানের জন্য তৃণমূলের নীতিই দায়ী। তাঁর বক্তব্য, যদি রাজ্যে বিভাজনের রাজনীতি না হত, তবে বিজেপি এতটা শক্তি অর্জন করতে পারত না। এর আগেও প্রচারে এসে তিনি একই অভিযোগ তুলেছিলেন। ফলে তাঁর এই মন্তব্য নতুন নয়, বরং আগের বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস একাই লড়াইয়ের পথে হাঁটছে। প্রায় দুই দশক পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেস নেতাদের ধারাবাহিক আক্রমণও সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
দিল্লিতে যেখানে বিরোধী ঐক্যের ছবি দেখা যাচ্ছে, সেখানে বাংলায় সেই সম্পর্ক অনেকটাই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। একদিকে সহযোগিতা, অন্যদিকে তীব্র বিরোধ, এই দ্বৈত অবস্থানই এখন রাজ্যের রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।


