ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে নতুন করে জটিলতা ও উদ্বেগের ছবি উঠে আসছে নদিয়ার রানাঘাট ব্লক-১ এলাকায়। পুরনো ও বর্তমান ভোটার তালিকার তথ্যের অমিলের কারণে বহু ভোটারকে এখন নথি জমা দিতে বলা হচ্ছে। নামের বানান, পদবি বা সংক্ষিপ্ত শব্দের সামান্য পার্থক্যই এই সমস্যার মূল কারণ বলে জানা যাচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যে নাম ছিল, বর্তমান তালিকায় তা ভিন্নভাবে নথিভুক্ত হয়েছে। কোথাও ‘শেখ’ ও ‘সেখ’, আবার কোথাও বাবার নামের সঙ্গে থাকা পদবি বা সংক্ষিপ্ত রূপ বদলে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে। এমনকি সন্তানের নথিতে বাবার নাম একরকম, আর পুরনো ভোটার তালিকায় অন্যরকম হওয়ায়ও যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে জন্ম শংসাপত্র বা অন্য পরিচয়পত্র জমা দিতে বলা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের অংশ হিসেবেই এই যাচাই প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষ করে প্রবীণ ভোটারদের ক্ষেত্রে সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। যাদের নাম নব্বইয়ের দশক বা তারও আগে ভোটার তালিকায় ছিল, তাদের অনেকের নাম পরে ভুলভাবে উঠে এসেছে বা বাদ পড়েছে। ডেটা এন্ট্রির ত্রুটি থেকেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রানাঘাট ব্লক-১-এর আনুলিয়া পঞ্চায়েতের শ্রীনাথপুর এলাকায় কর্মরত বিএলও নন্দিনী ব্যানার্জি চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, ভোটারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে তা অ্যাপের মাধ্যমে আপলোড করার কাজ চলছে। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর এখন শুনানির প্রস্তুতি চলছে। এই কাজের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে নথি সংগ্রহ করতে হচ্ছে বিএলওদের। এরপর সেই সব কাগজ যাচাই করা হবে। এই কাজের জন্য অ্যাপে নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্দিষ্ট ১২ ধরনের নথির বাইরে অন্য কিছু গ্রহণ করা হবে না। বহু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণের স্কুল শংসাপত্রও এখানে মান্য হবে না।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, বহু জীবিত ভোটারকে ‘মৃত’ বা ‘নিখোঁজ’ দেখিয়ে খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নামের বানান বা বাবার নামের সামান্য ভুলের জন্য শুনানির নোটিশ পাঠানো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। সব মিলিয়ে ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি ক্রমশ বাড়ছে।


