পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমার নিশ্চিন্তপুরের রিয়া দে কলা বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৮৬ নম্বর (৯৭.২%) পেয়ে জেলায় মেয়েদের মধ্যে শীর্ষস্থান ও রাজ্যে ১২তম স্থান অধিকার করেছে। তবে, মাত্র ২ নম্বরের ব্যবধানে রাজ্যের মেধাতালিকায় জায়গা না পাওয়ার আক্ষেপও ম্লান করে দিয়েছে তার জীবনের সংগ্রামের ইতিহাস। রিয়ার জন্মের আগেই বাবা সুকুমার দে নিরুদ্দেশ হন। মা টুম্পা দে দ্বিতীয়বার বিয়ে করলে, দাদু ক্ষুদিরাম জানা ও দিদিমা গীতা জানার কোলে বেড়ে ওঠে রিয়া। মাসখানেক আগে দাদুর মৃত্যু রিয়ার সাফল্যের আনন্দেও ছাপ ফেলেছে দুঃখ। নিশ্চিন্তপুরের বাড়ির উঠোনে চোখ মুছতে মুছতে রিয়া বলে, “দাদু যদি থাকতেন…!”
শিক্ষাজীবনে রিয়া প্রথমে পড়েছে নিশ্চিন্তপুর হাইস্কুলে। একাদশে ভর্তি হয় ঘাটালের বিদ্যাসাগর হাইস্কুলে। স্কুলের শিক্ষক চিন্ময় আদক জানান, “আর্থিক সংকট সত্ত্বেও রিয়ার জেদ আর মেধা তাকে এখানে এনেছে। আমরা সর্বদা তার পাশে আছি।” রিয়ার স্বপ্ন ইংরেজি নিয়ে কলকাতার নামী কলেজে পড়ার, কিন্তু আর্থিক অনটন চিন্তার কারণ। দিদিমাকে নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে রিয়া বলে, “দিদিমাকে সুখে রাখতেই চাই আমি।”

ঘাটাল মহকুমাশাসক সুমন বিশ্বাস রিয়ার সংবর্ধনায় বলেন, “বিদ্যাসাগরের স্নেহধন্য এই মাটি আবারও গর্বিত করেছে। রিয়ার পাশে থাকবে প্রশাসন।” নিশ্চিন্তপুর হাইস্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে গৃহশিক্ষক—সবাইকে কৃতিত্ব দেয় রিয়া। স্থানীয়রা জানান, দাদু-দিদিমা রোজগারের পাশাপাশি রিয়ার পড়াশোনার খরচ জোগাতে রাতজাগা করতেন। গ্রামবাসী সন্তোষ মণ্ডল বলেন, “এই সাফল্য শুধু রিয়ার নয়, সমাজের সকলের।”
রিয়ার ইচ্ছা কোলকাতার কোনও প্রসিদ্ধ কলেজের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হবার। শিক্ষকরা প্রশাসন ও সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে আবেদন উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে রিয়ার পাসে থাকার জন্য।


