নরেন্দ্র মোদি বুধবার বিশেষ ডাকটিকিট এবং স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করেছেন। এটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর শতবর্ষ উদযাপনকে স্মরণ করছে। এই ১০০ টাকার মুদ্রার এক পাশে জাতীয় প্রতীক এবং অন্য পাশে প্রথমবারের মতো ভারতের মুদ্রায় ভারত মাতার চিত্র দেখানো হয়েছে। চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ভারত মাতা বসে আছেন এবং তাঁর পাশে সিংহ রয়েছে। স্বয়ংসেবকরা ভক্তি ও সমর্পণের সঙ্গে তাঁর কাছে মাথা নত করছে।
বিরোধীসহ সাধারণ মানুষের একাংশের মতে, এটি সংবিধানের প্রতি অবমাননাকর। তাছাড়াও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভারত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ধর্ম নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশ। সংবিধানের স্পষ্ট উল্লেখিত রয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্ত এবং কার্যকলাপে কখনো কোন ধর্মের প্রতিফলন যেন না ঘটে। তবে বিজেপির কার্যকলাপে বারবার ফুটে উঠছে হিন্দুত্ববাদী আস্বাদন। অনেকের মতে, এই পদক্ষেপ প্রকৃত স্বাধীনতা সংগ্রামী ও তাদের স্বপ্নের ধর্ম নিরপেক্ষ ভারতের স্মৃতিকে আঘাত করছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ইতিমধ্যেই তীব্র নিন্দা দেখা দিয়েছে।
কংগ্রেস নেতা কেসি ভেনুগোপাল জানিয়েছেন, “ব্রিটিশদের সাথে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে এবং আজও সমাজে বিষ ছড়িয়ে দিয়ে চলেছে এমন একটি সংগঠনকে সম্মান জানানো আমাদের ইতিহাসের একটি কালো দিন হিসেবে দেখা উচিত। সর্দার প্যাটেল কর্তৃক নিষিদ্ধ একটি সংগঠনকে আজ ভারত সরকার কীভাবে সম্মানিত করতে পারে? যারা আমাদের সংবিধান পুনর্লিখনের এবং ডঃ আম্বেদকরের দেওয়া সামাজিক ন্যায়বিচারের এজেন্ডাকে ধ্বংস করার পক্ষে কথা বলেন, তাদের কীভাবে জাতীয় প্রতীক হিসেবে উদযাপন করা যেতে পারে?” অপর দিকে সিপিআইএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র সমাজমাধ্যমে লেখেন, “আরএসএসকে নিয়ে ডাকটিকিট প্রকাশ, ভারতের সংবিধানের প্রতি অপমান।” সমগ্র দেশ জুড়ে বিজেপির এমন কার্যকলাপে বিরোধীরা চূড়ান্ত নিন্দা ও ভৎসনা করছে, তবে এখনো পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


