দিল্লিতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা ঘোষণার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালে একটি পুরনো বিতর্ককে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছেন। তিনি ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ এবং ‘সমাজতান্ত্রিক’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। হোসাবালের মতে, ১৯৭৬ সালে জরুরি অবস্থার সময় ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে এই শব্দগুলি জোর করে যুক্ত করা হয়েছিল। তিনি কংগ্রেস নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের পূর্বপুরুষরা এই কাজ করেছিলেন, এখন দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।”
এই অনুষ্ঠানটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ড. বি.আর. আম্বেদকর আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে আয়োজিত হয়েছিল। ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় শিল্পকেন্দ্র (আইজিএনসিএ) এবং সংবাদ সংস্থা হিন্দুস্তান সমাচার যৌথভাবে এটির আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানে জরুরি অবস্থার প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়, বিশেষ করে সেই সময়ে নাগরিক স্বাধীনতা দমন এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের বিষয়টি উঠে আসে। আইজিএনসিএ-র চেয়ারম্যান রাম বাহাদুর রাই জরুরি অবস্থাকে “একজন ভীত মহিলার কাজ” বলে আখ্যা দিয়েছেন, যিনি তার মতে সমগ্র দেশে ভয়ের ছায়া ফেলতে চেয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবারের এই অনুষ্ঠানে হোসাবালে আরও বলেন যে, জরুরি অবস্থার সময় দেশে নাগরিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল এবং ক্ষমতাকে এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা হয়েছিল। তিনি কংগ্রেসের প্রতি তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সেই সময়ের ভুলের জন্য তাদের এখনও দায় স্বীকার করা উচিত।
এই মন্তব্যের জবাবে কংগ্রেস দল তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে আরএসএস-এর উপর তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, আরএসএস কখনোই সংবিধানকে মেনে নেয়নি এবং শুরু থেকেই ড. আম্বেদকর ও জওহরলাল নেহরুর বিরোধিতা করে এসেছে। জয়রাম আরও উল্লেখ করেন যে, আরএসএস এবং বিজেপি বারবার নতুন সংবিধানের দাবি তুলেছে। “২০২৪ সালের নির্বাচনে এটাই ছিল মোদীর প্রচারের মূল বিষয়, কিন্তু দেশের মানুষ তা নাকচ করে দিয়েছে,” বলেন তিনি।
এই ধরনের দাবি আরএসএস-এর পক্ষ থেকে আগেও উঠেছে। অতীতে সংগঠনের নেতারা সংবিধানের বদলে মনুস্মৃতি প্রতিষ্ঠার কথাও বলেছেন। ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ এবং ‘সমাজতান্ত্রিক’ শব্দ বাদ দেওয়ার দাবিতে ড. বলরাম সিং, প্রাক্তন আইনমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম স্বামী এবং আইনজীবী অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায়-এর মতো ব্যক্তিরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত বলে, এই দাবির পক্ষে দেওয়া যুক্তিগুলি “স্পষ্টতই ত্রুটিপূর্ণ”।
সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে যে, ৪২তম সংশোধনী সংবিধানের ৩৬৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বৈধভাবে করা হয়েছিল, যা সংবিধানের যেকোনো অংশে পরিবর্তনের অনুমতি দেয়। আদালতের মতে, ভারতীয় ধর্মনিরপেক্ষতা মানে সব ধর্মের প্রতি নিরপেক্ষ থাকা, আর ‘সমাজতন্ত্র’ বলতে বোঝায় কল্যাণ ও সমতার প্রতি দায়বদ্ধতা, কোনো কঠোর অর্থনৈতিক মতবাদ নয়।
এই ঘটনা ও বিতর্ক দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।


