সম্প্রতি এক জনসভায় আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত অনুপ্রবেশের প্রশ্নে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভাগবত অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত করার প্রসঙ্গ তোলেন। এই মন্তব্যকে ঘিরে বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, ভাষাকে পরিচয়ের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে ধরলে তা বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। কারণ বাংলা শুধু একটি দেশের ভাষা নয়; ভারতেরও বহু মানুষের মাতৃভাষা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম, এমনকি দেশের জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গানের সঙ্গেও এই ভাষা জড়িত। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী শ্রমজীবী মানুষদের হেনস্তা, আটক বা মারধরের অভিযোগও সামনে এসেছে। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় এবং প্রশাসনের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। তাঁদের মতে, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালিদের অবদান অনস্বীকার্য, তাই একটি সম্পূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সন্দেহের চোখে দেখা অন্যায়।
জনসংখ্যা প্রসঙ্গে দেওয়া মন্তব্যকে ঘিরে আরও একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভাগবত হিন্দু পরিবারগুলিকে অন্তত তিনটি সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দেন। বিরোধীদের বক্তব্য, সন্তান নেওয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত; এ ধরনের পরামর্শ সমাজে বিভাজনের ইঙ্গিত দেয়। কিছু রাজনৈতিক নেতার অতীতের উসকানিমূলক স্লোগানের কথাও আলোচনায় এসেছে, যা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ। বাংলাদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়ে সংহতির ডাকও দেন আরএসএস প্রধান। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, অন্য দেশের বিষয়ে মন্তব্য করার আগে দেশের ভেতরে সব ধর্ম, ভাষা ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের নিরাপত্তা ও সমানাধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া কি বেশি জরুরি নয়?ইতিহাস প্রসঙ্গেও বিতর্ক উত্থাপিত হয়েছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের নানা অধ্যায় তুলে ধরে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, প্রকৃত বীরদের মূল্যায়ন কতটা যথাযথভাবে হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ভাষা, ধর্ম ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে এই মন্তব্যগুলি নতুন করে রাজনৈতিক তর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বহুত্ববাদী সমাজে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


