উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে ফের উদ্ধার হলো তৃণমূল জমানার রাশি রাশি লুকনো আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার সকালে ওই এলাকার একটি পুকুরে হানা দিয়ে তাজ্জব বনে যান রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF) আধিকারিকরা। পুকুরের জল ছেঁচে এখনও পর্যন্ত ১৭টি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রচুর কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে অভিযানের টের পেয়েই এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছে ওই পুকুরের মালিক তথা প্রাক্তন তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি রবীন দাস ও তার ভাই গোপাল দাস।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের আগে এই ‘দাস ব্রাদার্স’ ছিল এলাকার মূর্তিমান ত্রাস। তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা শেখ শাহজাহানের ডানহাত হিসেবে পরিচিত এই দুই ভাই এলাকায় জমি দখল থেকে শুরু করে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চালাত। শাহজাহানের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে গ্রামবাসীদের দিনের পর দিন ধমকে-চমকে রাখত তারা। এলাকার সাধারণ পুরুষদের উপর চলত অকথ্য অত্যাচার। রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা এবং পা ভেঙে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটাত এই তৃণমূল নেতারা। তাদের অত্যাচারে বহু পরিবার এলাকাছাড়াও হয়েছে। এদিন সকালে এসটিএফের এই হানায় এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সন্দেশখালির মানুষ। তারা অবিলম্বে এই দুই তৃণমূলী দুষ্কৃতীর গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এই সফল অভিযান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক্স (X) হ্যান্ডেলে বেঙ্গল এসটিএফের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষকে ভয় পাওয়ানোর জন্যই এই বিপুল বেআইনি অস্ত্রশস্ত্র মজুত করা হয়েছিল, যার বলি হয়েছেন বহু বিজেপি কর্মী। মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “বাংলার সেই অন্ধকার দিন এবার কেটে গিয়েছে। আমাদের সরকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর।” রাজনৈতিক ক্ষমতা খাটিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরির দিন যে এবার শেষ, সন্দেশখালির এই অস্ত্র উদ্ধার তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল।


