কলকাতার একটি হোটেলে সিপিএম-এর রাজ্যসম্পাদক মহাম্মদ সেলিম এবং জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের বৈঠককে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই বঙ্গীয় রাজনীতির লাইমলাইটে এসে পড়েছে সিপিএম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপিএমকে তীব্র আক্রমণ করছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি। তৃণমূল দাবি করছে বর্তমানে সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমের দেউলিয়া হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে কটাক্ষের সুরে বলা হয়েছে, হুমায়ুন কবির দ্বারা গঠিত জনতা উন্নয়ন পার্টি একটি সাম্প্রদায়িক দল।
বর্তমানে রাজনৈতিক প্রাঙ্গণে সাম্প্রদায়িক শব্দটি অত্যন্ত বেশি সঙ্গী ক্ষয়ে উঠেছে। হিন্দুত্ববাদের উগ্র আস্ফালন হোক, কিংবা ভারতীয় সংখ্যালঘুদের কলুষিত করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা, সবেতেই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ প্রকাশ পাচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই কি হুমায়ুন কোভিদকে সাম্প্রদায়িক বলে মনে হচ্ছে, তৃণমূল দলের শীর্ষ নেতৃত্বের? অতীতের তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি এই দুই দলে থেকে জনসেবা মূলক কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন হুমায়ুন কবির। বাবরি মসজিদ নির্মাণের কথা ঘোষণা করার সময় হুমায়ুন কবির তখনও তৃণমূল কংগ্রেস করতেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, কেন নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টির গড়ার পর হুমায়ুন কবিরকে সাম্প্রদায়িক তকমা দিচ্ছে তৃণমূল?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি টাকায় দীঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন করলেন। ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে দুর্গানগঞ্জ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি মমতা ব্যানার্জির মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ হিন্দু ভোটকে কুক্ষিগত করার প্রচেষ্টা। এমন পরিস্থিতিতে মুর্শিদাবাদে হুমায়ুন কবিরের উদ্যোগে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস কি সত্যি সাম্প্রদায়িকতাকে উপস্থাপন করে? নাকি হুমায়ুন কবিরকে সাম্প্রদায়িক বলা তৃণমূলের নৈতিক আক্রমণ? তার জবাব দেবে সময়।


