গাজা উপত্যকায় ফের চরম সংকট। ঝড় ‘বাইরন’-এর দাপটে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় থাকা হাজার হাজার মানুষ আরও বড় বিপদের মুখে পড়েছেন। ঘরবাড়ি হারিয়ে যারা তাবু বা ভাঙা বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের জীবন এখন কার্যত অনিশ্চিত বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের প্যালেস্টাইনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ।
প্রবল বৃষ্টি ও হাওয়ার জেরে বহু জায়গায় অস্থায়ী তাবু জলে ভেসে গেছে। জলে নষ্ট হয়ে গেছে কম্বল, জামাকাপড় ও খাবার। ফলে ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে রাত কাটাচ্ছেন শিশু, মহিলা ও বৃদ্ধরা। অনেক জায়গায় আশ্রয় নেওয়া ভবন এতটাই দুর্বল যে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, গাজায় প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছে দিতে তারা বারবার বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ত্রাণ ঢুকতে না পারায় বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য সহায়তার পরিমাণ খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে। সংস্থার দাবি, এই পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং বাধাহীন ভাবে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি না মিললে সংকট আরও গভীর হবে।
গত কয়েক দিনে ঠান্ডা ও বৃষ্টির কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বহু শিশু। চিকিৎসার সুযোগও পর্যাপ্ত নয় বলে জানা গিয়েছে। গাজার প্রশাসনের মতে, বর্তমান অবস্থায় অন্তত তিন লক্ষ তাবু ও অস্থায়ী ঘর প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের সংঘর্ষে গাজার অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি যুদ্ধ থামলেও সাধারণ মানুষের দুর্দশা কমেনি। ইউএনআরডব্লিউএ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এখনই বড় আকারে মানবিক সাহায্য পৌঁছানো না গেলে গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।


