আইপিএলে নাইট দলের হয়ে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে সম্প্রতি বিতর্কের মুখে পড়েছেন অভিনেতা শাহরুখ খান। সামাজিক মাধ্যমে তাকে নানা কটূক্তির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি দেশদ্রোহী বলেও আক্রমণ করেছেন তাকে। যদিও এই ধরনের অভিযোগ শাহরুখের কাছে নতুন নয়। ‘খান’ পদবীকে সামনে রেখে আগেও বহুবার তার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে বরাবরের মতোই এবারও কোনও পালটা মন্তব্য না করে নীরব থাকাই বেছে নিয়েছেন তিনি।
শাহরুখ খান শুধু পর্দার নায়ক নন, বাস্তব জীবনেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নজির বারবার রেখেছেন। বহু বছর ধরেই তিনি নিঃশব্দে সমাজসেবার কাজ করে চলেছেন। প্রচারের আলো এড়িয়ে দুর্যোগ, অসুস্থতা কিংবা দারিদ্রের সময় পাশে থেকেছেন অসংখ্য মানুষের। ২০০৯ সালে ওড়িশার একটি পিছিয়ে পড়া গ্রাম দায়িত্ব নিয়ে সেখানে বিদ্যুৎ ও উন্নয়নের ব্যবস্থা করেছিলেন শাহরুখ। পরে আবার এক আইপিএল মরসুমে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ পুরস্কারের অর্থ ক্যানসার আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য দান করেন। ২০১২ সালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও ১২টি গ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নেন তিনি।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমলে সুনামি ত্রাণ তহবিলে বড় অঙ্কের অর্থ সাহায্য করেছিলেন শাহরুখ খান। মুম্বইয়ের নানাবতী হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্ড তৈরিতেও আর্থিক সহায়তা দেন তিনি, যেখানে ক্যানসার চিকিৎসার সুবিধাও রয়েছে। ২০১৪ সালে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার আর্থিক উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করেন অভিনেতা। পরবর্তী বছর চেন্নাইয়ের ভয়াবহ বন্যা ও উত্তরাখণ্ডে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। কোভিড অতিমারির সময় দেশের নানা হাসপাতালে হাজার হাজার পিপিই কিট পাঠিয়েছিলেন তিনি।
এছাড়াও তার বাবার নামে গড়ে তোলা মীর ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অ্যাসিড আক্রান্তদের চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে পাঞ্জাবের বন্যাদুর্গত বহু পরিবারের দায়িত্বও নিয়েছেন শাহরুখ। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই সব কাজ তিনি কখনও প্রচারের জন্য করেননি। নীরব কর্মই তার জবাব। সেই কারণেই শাহরুখ খান আজও অসংখ্য মানুষের কাছে একজন প্রকৃত মানবিক মুখ।


