রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর স্বাস্থ্য পরিষেবায় একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে বিজেপি সরকার। সেই আবহেই সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করলেন তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেন। তাঁর এই পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফেসবুকে করা পোস্টে শান্তনু সেন লিখেছেন, দীর্ঘদিন চিকিৎসক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নেওয়া নতুন পদক্ষেপগুলিকে স্বাগত জানাচ্ছেন। বিশেষ করে স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
নিজের বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও উন্নত করতে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ইতিবাচক বলেই তিনি মনে করছেন। পাশাপাশি তিনি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন নতুন সরকারের প্রতি।
শান্তনু সেন একসময় তৃণমূলের পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি রাজ্যসভার সদস্যও ছিলেন। এছাড়া আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। চিকিৎসক আন্দোলনের বিভিন্ন ইস্যুতে অতীতে তাঁকে সরব হতে দেখা গিয়েছে।
কিছুদিন আগে আর জি কর হাসপাতালকে কেন্দ্র করে হওয়া আন্দোলনের সময় তিনি প্রকাশ্যে আন্দোলনকারীদের সমর্থন করেছিলেন। সেই ঘটনায় দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পরে তাঁকে দলীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং সাময়িকভাবে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে সেই দূরত্ব কিছুটা কমে আসে।
তবে এবার বিজেপি সরকারের প্রশংসা করে তাঁর পোস্ট নতুন রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি করেছে। কারণ, সাম্প্রতিক নির্বাচনে তৃণমূলের খারাপ ফলের পর দলের ভেতরে অসন্তোষের কথা সামনে আসছে। একাধিক নেতা প্রকাশ্যে বা আড়ালে দলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে।
এই পরিস্থিতিতে শান্তনু সেনের মতো একজন নেতার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে প্রকাশ্যে অভিনন্দন জানানোকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, তাঁকে এতদিন তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ ও অভিষেক ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবেই দেখা হতো।
যদিও এই পোস্টের পর তৃণমূলের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বিজেপি শিবিরে বিষয়টি নিয়ে উৎসাহ দেখা গিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের ফলের পর রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে এবং আগামী দিনে আরও অনেক নেতার অবস্থান বদলাতে পারে।


