মধ্যপ্রদেশের জাবালপুর জেলার সিহোরা শহরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে আজাদ চক এলাকায় একটি মন্দির ও মসজিদের কাছে মাইক ব্যবহারের বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। সেই ঘটনার জেরে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে।
বাসিন্দাদের দাবি, এক মুসলিম যুবক মসজিদে নামাজ চলাকালীন মন্দিরের আরতির শব্দ কিছুটা কমানোর অনুরোধ করেন। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরে একদল মানুষ লাঠিসোঁটা ও দাহ্য পদার্থ নিয়ে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ঢুকে পড়ে। কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার সময় নারীদের উদ্দেশে কুরুচিকর মন্তব্য ও হুমকিও দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে হালকা বলপ্রয়োগ করা হয়। তাতেও কাজ না হলে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে এলাকা শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে এবং অন্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
তবে গ্রেফতার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এলাকার কিছু মানুষ অভিযোগ করেছেন, যাদের ধরা হয়েছে তাদের অনেকেই তখন মসজিদের ভেতরে তারাবির নামাজে ব্যস্ত ছিলেন। তারা কোনো সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করা হচ্ছে। বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, নিরপরাধ কাউকে যেন হয়রানি না করা হয়। ঘটনার আগে একটি হিন্দু সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচির কথাও সামনে এসেছে। স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, অশান্তির সময় একটি মাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।


