কলকাতায় বৃহস্পতিবার উত্তেজনার সৃষ্টি হয় স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়া (এসআইও), পশ্চিমবঙ্গ শাখার বিধানসভা অভিযানকে কেন্দ্র করে। “ওবিসি নীতির পুনর্বহাল, সমন্বিত শিক্ষাঙ্গন ও কর্মসংস্থানের উদ্ভাবন”, এই দাবিকে সামনে রেখে কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হয় হাজার হাজার ছাত্র–যুবকের বিশাল মিছিল। মিছিলটি এস এন ব্যানার্জি ক্রসিংয়ে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে তাদের পথ আটকায়। হঠাৎ বাধায় মিছিল থেমে গেলে ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এসআইও-র পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল বিধানসভায় গিয়ে প্রশাসনের কাছে তাদের ১৫ দফা দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি জমা দেয়। অন্যদিকে পথে আটকে থাকা আন্দোলনকারীরা স্লোগান তুলতে থাকেন—শিক্ষাক্ষেত্রে বঞ্চনা, ওবিসি সংরক্ষণ বাতিল এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে।
মিছিলে উপস্থিত জামাআতে ইসলামী হিন্দ, পশ্চিমবঙ্গ শাখার রাজ্য সভাপতি ডা. মশিহুর রহমান বলেন, “সংবিধানসম্মত অধিকার থেকে বঞ্চিত লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আজ অন্ধকারে। প্রশাসনের উদাসীনতায় ওবিসিদের ন্যায্য অধিকার প্রশ্নের মুখে পড়েছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৈরি নীতি রাজনৈতিক স্বার্থে বাতিল করা যায় না।
এসআইও-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াকিল দাবি করেন, বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত উপেক্ষা করায় মুসলিম ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া ছাত্রদের উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ কমে যাচ্ছে। অভিযান শেষে রাজ্য সভাপতি ইমরান হোসেন সতর্ক করে বলেন, “আজকের এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে ছাত্রসমাজ নিরব নয়। সরকার যদি কথা না শোনে, আন্দোলন আরও জোরদার হয়ে নবান্নের দরজায় পৌঁছবে।” এদিনের কর্মসূচিতে ‘যোগ্য চাকরিহারী মঞ্চ’-এর সভাপতি সুমন বিশ্বাসসহ আলি নওয়াজ মণ্ডল, আমিরুল ইসলাম ও সফিকুল ইসলাম মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন। এসআইও-র ১৫ দফা দাবির মধ্যে ছিল ওবিসি সংরক্ষণ পুনর্বহাল, মুর্শিদাবাদ ও আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন, হোস্টেল বৃদ্ধি, শূন্যপদের হালনাগাদ করে জব ক্যালেন্ডার প্রকাশ, দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ, ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু ও বন্ধ বিদ্যালয় পুনরায় খোলা।


