মুর্শিদাবাদ জেলার ছাত্র সংগঠন এসআইও-র উদ্যোগে বহরমপুরে অনুষ্ঠিত হলো এক বড় পদযাত্রা ও ছাত্র সমাবেশ। “ওবিসি নীতির পুনর্বহাল, সমন্বিত শিক্ষাঙ্গন, কর্মসংস্থানের উদ্ভাবন”— এই দাবিকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত ছাত্র-যুব বহরমপুরে জমায়েত হন। টেক্সটাইল মোড় থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রাটি বাসস্ট্যান্ড ঘুরে স্কোয়ার ফিল্ডে এসে শেষ হয়। পরে তারা জেলা শাসকের দপ্তরে তাদের দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
সমাবেশে এসআইও পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি ইমরান হোসেন ওবিসি সংরক্ষণ নীতি পুনর্বহালের জোরালো দাবি তোলেন। তিনি বলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় ওবিসি কোটার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু ছাত্রছাত্রী নিজেদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক পিএইচডি ফলাফলে কোনো ওবিসি মুসলিম শিক্ষার্থী না থাকা বিষয়টিকে তিনি স্পষ্ট বৈষম্যের উদাহরণ বলে মন্তব্য করেন। তার কথায়, “ওবিসি নীতি সংবিধান স্বীকৃত অধিকার। এ নিয়ে কোনো রাজনৈতিক চক্রান্ত বা সরকারের উদাসীনতা মানা হবে না।” তিনি আরও জানান, দাবি না মানা হলে আন্দোলন নবান্ন পর্যন্ত গড়াবে। এসআইও আগামী ১৯ নভেম্বর কলেজ স্কোয়ার থেকে বিধানসভা পর্যন্ত মহামিছিল করারও ঘোষণা দেয়।
উত্তর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি আহমাদ আলী বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরেও মুর্শিদাবাদ শিক্ষা-অবকাঠামোর ঘাটতি ও বৈষম্যের শিকার। তিনি মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন, নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মাণ, পর্যাপ্ত স্থায়ী শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগসহ জেলার সব কলেজকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনার দাবি জানান।
দক্ষিণ মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি জয়নাল আবেদীন নদীভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ও পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ চালুর দাবি তোলেন। জেলা শিক্ষা আন্দোলনের কনভেনর মোহাম্মদ সাহীন শওকাত জানান, আহিরণ ক্যাম্পাসে বছরের পর বছর খুব কম কোর্স চলছে। তিনি অবিলম্বে কোর্স সংখ্যা বাড়ানো ও অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি করেন। পাশাপাশি প্রতিটি মহকুমায় আইন কলেজ ও গার্লস কলেজ স্থাপনের দাবিও উত্থাপিত হয়।
এদিনের কর্মসূচিতে জামাআতে ইসলামী হিন্দ মুর্শিদাবাদ জেলার সভাপতি শামসুল আলমসহ এসআইও-র অন্যান্য রাজ্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


