বীরভূমের রামপুরহাটে SIR আতঙ্কে ফের একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হলো। গদাইপাড়ার বাসিন্দা ৩৭ বছরের হকার জনি শেখ গত সোমবার আত্মহত্যা করেন। তাঁর পরিবারের দাবি, SIR নিয়ে গভীর আতঙ্ক আর উদ্বেগে ভুগছিলেন তিনি। মাত্র ৯ দিন আগে একই রামপুরহাটে, অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক কাঞ্চন মণ্ডলও SIR শুনানিতে যাওয়ার পর অচেনা স্থানে মৃত পাওয়া যান। এছাড়া, স্থানীয় একটি হোমের আটজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিও একই আতঙ্কে রয়েছেন। রাজ্য জুড়ে বহু মানুষ আইনি জটিলতার কারণে নোটিশ পেয়ে ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
জনি শেখের মামাতো বোন পুতুল বিবি বলেন, “সেদিন দুপুরে আমার কাছেই ভাত খেতে বসে বলল, এই ওয়ার্ডে ১৭৩ জনের নোটিশ এসেছে, আমার কী হবে? কিছু ভাত খেয়ে ঘুমাতে গেল। দরজা ভেঙে দেখি, দড়িতে ঝুলছে।” পরিবার জানায়, রেলের জমিতে ঘর করে থাকতেন জনি। সেটি উচ্ছেদ হলে তিনি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। আধার ও ভোটার কার্ড ছাড়া তাঁর কোনো কাগজ ছিল না। ব্যাংক হিসাবও ছিল না। রামপুরহাট শহর কংগ্রেসের সভাপতি শাহাজাদা কিনু বলেন, “আর কত প্রাণ যাবে? মানুষ শুধু আতঙ্কেই মরছে।” পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত অভিযোগ করেন, “বিজেপি সরকার ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে চায়। মানুষ মেরে জিততে চাইছে তারা।” SIR নিয়ে এমন আতঙ্কে আর কত প্রাণ যাবে, তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এলাকায়। প্রশ্ন উঠছে, এই মৃত্যুর দায় শেষ পর্যন্ত নেবে কে?


