রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে একাংশ মানুষের মধ্যে। কারণ, সম্প্রতি নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল একটি ঘোষণা করেছেন, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।মন্ত্রী জানিয়েছেন, যেসব মহিলার নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছে বা যাঁদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয় এখনও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তাঁদের আপাতত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে না। এই প্রকল্পে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে মহিলাদের। তবে এই সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।এর আগেই নাম বাদ পড়া নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল বিভিন্ন এলাকায়। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রীর এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মানুষের মধ্যে এখন প্রশ্ন উঠছে, শুধুমাত্র এই প্রকল্পই নয়, ভবিষ্যতে অন্য সরকারি সুবিধাগুলিও কি বন্ধ হয়ে যেতে পারে? এমনকি পরিচয়পত্রগুলির বৈধতা নিয়েও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।ফেসবুক লাইভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, যাঁদের নাম এখনও চূড়ান্ত তালিকায় নেই বা মামলা নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। পাশাপাশি তিনি জানান, মৃত ব্যক্তি বা যাঁরা দেশের নাগরিক নন, তাঁরাও এই সুবিধা পাবেন না।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগের সরকারের সময় যে বিপুল সংখ্যক মহিলা একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের সুবিধা পেতেন, সেই তালিকা এখন নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে। এই তালিকার সঙ্গে বাদ পড়া নামগুলিকে মিলিয়ে দেখা হবে। যাঁদের আবেদন বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাচাই প্রক্রিয়া চলবে।অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, কোনও প্রকল্প হঠাৎ বন্ধ করা হবে না। তবে যাঁরা প্রকৃত সুবিধাভোগী নন বা ভুয়ো তথ্য দিয়ে সুবিধা নিচ্ছেন, তাঁদের বাদ দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সমস্ত আর্থিক সহায়তা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে এবং তার জন্য তালিকা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হবে।
Popular Categories


