এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন কাজের চাপে একের পর এক বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) প্রাণ হারাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই পর্বে দেশের নানা প্রান্তে বিএলওরা প্রতিদিনই ঘরে ঘরে গিয়ে ফর্ম বিতরণ ও সংগ্রহের কাজ করছেন। এই কঠিন দায়িত্ব পালনের সময় অনেককে নানারকম প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিএলওদের অভিযোগ, কাজের চাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা অনেকের পক্ষে সামলানোই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাত, কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও তামিলনাড়ুসহ নয়টি রাজ্য এবং লাক্ষাদ্বীপ, নিকোবর ও পুদুচেরি—এই তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৪ নভেম্বর থেকে বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) চলছে। মোট ৩২১টি জেলায় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রতি ঘরে গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রায় ৫.৩ লক্ষ বিএলওকে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন রাজ্যে এখন পর্যন্ত ২৮ জন বিএলওর মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হলেও তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে, উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগর, বাহরাইচ ও বেরেলিতে দায়িত্বে অবহেলা এবং সরকারি আদেশ অমান্যের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে বিএলও এবং অন্যান্য কর্মীদের নামে। শুধু গৌতম বুদ্ধ নগরেই আলাদা চারটি এফআইআর হয়েছে, যেখানে ৬০ জনেরও বেশি নাম উল্লেখ রয়েছে। বিএলওদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে শিক্ষকরা ছুটিও পাচ্ছেন না। নাম প্রকাশ না করা এক শিক্ষিকা জানান, “শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও ছুটি মেলেনি।” নয়ডার আরেক শিক্ষিকা পিঙ্কি সিরোহি জানিয়েছেন, প্রচণ্ড চাপের কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন, যদিও তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি। এসআইআর চলাকালীন এই পরিস্থিতি তাই দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।


