বরকতের মাস মাহে রমযান শুরু হতেই পাইকর গ্রামের সুনালি খাতুনের মনে ফিরে এসেছে গত বছরের স্মৃতি। তখন স্বামী দানেশ সেখকে পাশে নিয়েই ইফতার করেছিলেন তিনি। একসঙ্গে সেহরি খাওয়া, সারাদিন রোজা রাখা আর মাগরিবের আজানে একসঙ্গে দোয়া—সবই ছিল সংসারের ছোট ছোট সুখের মুহূর্ত। রমজান শেষে আনন্দের ঈদও কেটেছিল হাসিখুশি পরিবেশে। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে সবকিছু বদলে গেছে।এবার সুনালির কোল জুড়ে একরত্তি সন্তান। ছেলের বয়স এখন মাত্র এক মাস চৌদ্দ দিন। বৃহস্পতিবার শিশুটিকে পোলিও টিকা দিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান তিনি। টিকা নেওয়ার পর জ্বর আসায় ছেলেকে কোলে নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। সন্তানের অসুস্থতার কারণে এ বছর রোজা রাখতে পারেননি সুনালি। বাড়িতে মা জ্যোৎস্না বিবি, বাবা ভদু সেখ, দাদা সুরয ও বৌদি সীমা খাতুন রোজা রাখছেন, কিন্তু সুনালির মন পড়ে আছে বহু দূরে।গত বছর দিল্লির রোহিনীর ঝুপড়ি এলাকায় স্বামীর সঙ্গে থাকতেন তিনি। সেখানেই হঠাৎ করে দানেশকে আটক করে পুলিশ। পরে সুনালিকেও বাংলাদেশি সন্দেহে সীমান্ত পেরিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরিবারের আরও কয়েকজন একই পরিস্থিতির মুখে পড়েন। পরে আদালতের নির্দেশে সুনালি দেশে ফিরতে পারলেও তার স্বামী এখনও বাংলাদেশে আটকে আছেন।শোনা গেছে, মামলার শুনানি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত শুনানির আবেদন করা হলেও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জামিন মিললেও দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি দানেশের। চার মাসের বেশি সময় ধরে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।সুনালি জানান, তার সন্তানের নামকরণে সাহায্য করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবু মনের দুশ্চিন্তা কাটছে না। ছেলের মুখ এখনও দেখেননি বাবা। ফোনে যোগাযোগও ঠিকমতো হচ্ছে না। একই গ্রামে নাজিনা বিবি ও সাইদুল সেখের পরিবারেও একই রকম কষ্টের ছবি। তাদের আপনজনরাও বাইরে আটকে। সামনে ঈদ, কিন্তু পরিবারের সবাই একসঙ্গে নেই। আনন্দের উৎসব এবার অনেকের কাছেই বিষাদের হয়ে উঠেছে।
রমজানের পবিত্র মাসে পাশে নেই স্বামী! সুনালী বিবির চোখের জলে ভিজছে না দুই বাংলার কাঁটাতার
Popular Categories


